গতকাল রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে জোটের নেতাকর্মীদের পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে জামায়াতের আমির নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদকে শান্ত করতে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
পরে সেখান থেকেই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে দেশের চার বিভাগে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে লংমার্চ হবে। আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, লংমার্চের পাশাপাশি রাজপথে আরও কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। খুলনার লংমার্চ শেষে যশোর ও কুষ্টিয়া হয়ে ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকায় ফিরবে। অন্য লংমার্চগুলো বাসে হলেও সিলেটের কর্মসূচি রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ লংমার্চে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আন্দোলনের অন্যতম দাবি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার। তিনি বলেন, তারা জীবিত থাকা অবস্থায় গণহত্যা ও গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আস্ফালন করতে দেবেন না।
এলপিজির দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি মূল্য কমানোর দাবি জানান। দাম কমানো না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাও করতে বাধ্য হওয়ার কথাও জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, একই কর্মসূচি সারা বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করেন। জনগণের দাবিগুলো জনপ্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছেন তারা।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মিছিল থামাতে চাইলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অথবা তার প্রতিনিধি ভেতর থেকে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চান তারা। সরকার জনগণের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে তাদের ধন্যবাদ জানানো হবে। তবে ব্যর্থ হলে আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে তারা আসেননি। সরকারের প্রতিনিধির হাতে সম্মানের সঙ্গে দাবিগুলো তুলে দিতে চান। এজন্য তারা ১০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের অনুরোধে আপাতত সেখানে অবস্থান করছেন। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে তাদের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখা উচিত নয়।
কর্মসূচিতে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গত তিন মাসে আদায় করা সব ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্রুত গণশুনানি করতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং অন্যান্য অযৌক্তিক ও অবৈধ চার্জ বাতিলের দাবি জানানো হয়। গত তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য খাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ কোনো আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়।
বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোস্টপেইড বিলের সঙ্গে মিটার রিডিং লগ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও বিলিং ব্যবস্থার স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ অডিট করার কথা বলা হয়।
‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’ নীতি অবিলম্বে কার্যকর করে সরবরাহ না থাকা সময়ের কোনো বিল না নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ পরিকল্পনা ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে।
গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’ দিতে হচ্ছে। এসব কারণে নারীরা রাস্তায় নেমে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে মিছিল করছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যে সরকার গণভোটের গণরায় মানে না, তারা জনগণের কোনো দাবি পূরণ করবে না। নির্বাচনের শুরু থেকেই সরকার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তা তারা ধারাবাহিকভাবে করে যাবে। সরকারকে তা করতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বর্ষাবিপ্লব হয়েছিল। প্রয়োজন হলে ২০২৬ সালেও হবে। তার দাবি, সরকার পাঁচ মাসে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।
কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির ২০ লাখের বেশি মানুষের কাজের সুযোগ হয়েছে। তারা বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড ও রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজন। ঋণখেলাপিদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই সরকারের কাছে বেশি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। জনগণের দাবি আদায়ে যা যা প্রয়োজন, তা করতে হবে।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং ডিপিডিসি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আনম বজলুর রহমানসহ অনেকে।
সূত্র: মানবজমিন

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
গতকাল রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে জোটের নেতাকর্মীদের পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে জামায়াতের আমির নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদকে শান্ত করতে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
পরে সেখান থেকেই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে দেশের চার বিভাগে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে লংমার্চ হবে। আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, লংমার্চের পাশাপাশি রাজপথে আরও কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। খুলনার লংমার্চ শেষে যশোর ও কুষ্টিয়া হয়ে ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকায় ফিরবে। অন্য লংমার্চগুলো বাসে হলেও সিলেটের কর্মসূচি রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ লংমার্চে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আন্দোলনের অন্যতম দাবি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার। তিনি বলেন, তারা জীবিত থাকা অবস্থায় গণহত্যা ও গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আস্ফালন করতে দেবেন না।
এলপিজির দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি মূল্য কমানোর দাবি জানান। দাম কমানো না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাও করতে বাধ্য হওয়ার কথাও জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, একই কর্মসূচি সারা বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করেন। জনগণের দাবিগুলো জনপ্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছেন তারা।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মিছিল থামাতে চাইলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অথবা তার প্রতিনিধি ভেতর থেকে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চান তারা। সরকার জনগণের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে তাদের ধন্যবাদ জানানো হবে। তবে ব্যর্থ হলে আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে তারা আসেননি। সরকারের প্রতিনিধির হাতে সম্মানের সঙ্গে দাবিগুলো তুলে দিতে চান। এজন্য তারা ১০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের অনুরোধে আপাতত সেখানে অবস্থান করছেন। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে তাদের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখা উচিত নয়।
কর্মসূচিতে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গত তিন মাসে আদায় করা সব ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্রুত গণশুনানি করতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং অন্যান্য অযৌক্তিক ও অবৈধ চার্জ বাতিলের দাবি জানানো হয়। গত তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য খাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ কোনো আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়।
বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোস্টপেইড বিলের সঙ্গে মিটার রিডিং লগ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও বিলিং ব্যবস্থার স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ অডিট করার কথা বলা হয়।
‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’ নীতি অবিলম্বে কার্যকর করে সরবরাহ না থাকা সময়ের কোনো বিল না নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ পরিকল্পনা ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে।
গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’ দিতে হচ্ছে। এসব কারণে নারীরা রাস্তায় নেমে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে মিছিল করছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যে সরকার গণভোটের গণরায় মানে না, তারা জনগণের কোনো দাবি পূরণ করবে না। নির্বাচনের শুরু থেকেই সরকার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তা তারা ধারাবাহিকভাবে করে যাবে। সরকারকে তা করতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বর্ষাবিপ্লব হয়েছিল। প্রয়োজন হলে ২০২৬ সালেও হবে। তার দাবি, সরকার পাঁচ মাসে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।
কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির ২০ লাখের বেশি মানুষের কাজের সুযোগ হয়েছে। তারা বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড ও রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজন। ঋণখেলাপিদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই সরকারের কাছে বেশি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। জনগণের দাবি আদায়ে যা যা প্রয়োজন, তা করতে হবে।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং ডিপিডিসি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আনম বজলুর রহমানসহ অনেকে।
সূত্র: মানবজমিন

আপনার মতামত লিখুন