নদীর পানির প্রবল স্রোতে বাঁধের মাটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তার ডান তীরে থাকা ১ নম্বর স্পার ও ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডা ইউনিয়নও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যারাজ থেকে রংপুরের কাউনিয়া পর্যন্ত ডান তীরের প্রধান বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে সরে আসায় এরই মধ্যে পুরো প্রধান বাঁধ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশন জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলার কাজ করছে।
এর আগে তিস্তা নদীর পানি কয়েক দফায় বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। গত ২২ জুলাই নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই দিন পানির প্রবল চাপ ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়।
এরপর নদীর পানি কমে যাওয়ার ১৪ দিনের মাথায় গত ৫ আগস্ট আবারও হঠাৎ পানি বেড়ে যায়। সেদিন তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেই পানির চাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই এবার ডান তীরের প্রধান বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পাউবো ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তখন পানির সমতল ছিল ৫১ দশমিক ৮৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
তিনি জানান, এর আগে গতকাল সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৯৫ মিটার এবং বিকেল ৩টায় ছিল ৫১ দশমিক ৯০ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গতকাল সকালে নদীর পানি কমতে শুরু করলে তীব্র স্রোত ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ডান তীরের প্রধান বাঁধে সরাসরি আঘাত করতে থাকে। খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় তিস্তা নদীর গতিপথ হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে চলে আসায় প্রধান বাঁধে স্রোতের আঘাত লাগছে। বর্তমানে ৭ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানীর ভেন্ডাবাড়ি এবং জলঢাকার ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডা ইউনিয়নও ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১ নম্বর স্পার ও ভেন্ডাবাড়িসহ প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় নদীর আঘাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের প্রায় পাঁচ শত পরিবারের বসতবাড়ি এবং শত শত হেক্টর ফসলি জমি তিস্তার পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভেন্ডাবাড়ি স্পার এলাকার কৃষক শরিফুল আলী বলেন, তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে সরে আসার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামনে আরও এক দফা বড় বন্যা হলে এ এলাকার একটি গ্রামও টিকে থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অপর বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, নদী ডান তীরের দিকে সরে এসে যেভাবে বাঁধে আঘাত করছে এবং তা ভেঙে দিচ্ছে, তাতে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ি, ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডার শত শত ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
নদীর পানির প্রবল স্রোতে বাঁধের মাটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তার ডান তীরে থাকা ১ নম্বর স্পার ও ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডা ইউনিয়নও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যারাজ থেকে রংপুরের কাউনিয়া পর্যন্ত ডান তীরের প্রধান বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে সরে আসায় এরই মধ্যে পুরো প্রধান বাঁধ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশন জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলার কাজ করছে।
এর আগে তিস্তা নদীর পানি কয়েক দফায় বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। গত ২২ জুলাই নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই দিন পানির প্রবল চাপ ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়।
এরপর নদীর পানি কমে যাওয়ার ১৪ দিনের মাথায় গত ৫ আগস্ট আবারও হঠাৎ পানি বেড়ে যায়। সেদিন তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেই পানির চাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই এবার ডান তীরের প্রধান বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পাউবো ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তখন পানির সমতল ছিল ৫১ দশমিক ৮৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
তিনি জানান, এর আগে গতকাল সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৯৫ মিটার এবং বিকেল ৩টায় ছিল ৫১ দশমিক ৯০ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গতকাল সকালে নদীর পানি কমতে শুরু করলে তীব্র স্রোত ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ডান তীরের প্রধান বাঁধে সরাসরি আঘাত করতে থাকে। খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় তিস্তা নদীর গতিপথ হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে চলে আসায় প্রধান বাঁধে স্রোতের আঘাত লাগছে। বর্তমানে ৭ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানীর ভেন্ডাবাড়ি এবং জলঢাকার ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডা ইউনিয়নও ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১ নম্বর স্পার ও ভেন্ডাবাড়িসহ প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় নদীর আঘাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের প্রায় পাঁচ শত পরিবারের বসতবাড়ি এবং শত শত হেক্টর ফসলি জমি তিস্তার পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভেন্ডাবাড়ি স্পার এলাকার কৃষক শরিফুল আলী বলেন, তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডান দিকে সরে আসার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামনে আরও এক দফা বড় বন্যা হলে এ এলাকার একটি গ্রামও টিকে থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অপর বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, নদী ডান তীরের দিকে সরে এসে যেভাবে বাঁধে আঘাত করছে এবং তা ভেঙে দিচ্ছে, তাতে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ি, ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডার শত শত ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর

আপনার মতামত লিখুন