শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের সিলগালাকৃত তিনটি ডেগসহ মোট পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। দিনভর প্রকাশ্যে এসব দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। সন্ধ্যায় গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ জানানো হয়।
এ নিয়ে গত ২২ জুন থেকে চার দফায় মাজারের দানবাক্সে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪২ টাকা। নতুন ব্যবস্থাপনার আওতায় নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করায় মাজারের দানের অর্থের হিসাবও প্রকাশ্যে আসছে।
শনিবারের গণনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ ফিলস, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া মানতের অর্থের সঙ্গে মাজারের ডেগে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে লেখা একটি চিঠি, সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট, ছাত্রলীগের কমিটি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ‘খোকন মামু’র নামে লেখা একটি খোলা চিঠিও পাওয়া গেছে।
অর্থ গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়। তখন পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় দফায় গত ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে গণনা করলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল।
এর আগে ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যোগ করা হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, দানবাক্সের অর্থ গণনার বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাজারের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত-আশেকানরা আসেন। তারা দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। অনেকে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও মানত হিসেবে দিয়ে থাকেন।
মাজারের দীর্ঘদিনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ থাকলেও দানের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে মাজারের দান ও মানতের অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য সামগ্রী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। এসব অর্থ ও সামগ্রী বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গত ১১ জুন মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে দানের অর্থের হিসাব চান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন নতুন দানবাক্স স্থাপন, পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা এবং মাজারের অর্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ নেয়।
গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। ২২ জুন প্রথমবার দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। এরপর থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
সূত্র: জবাবদিহি

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের সিলগালাকৃত তিনটি ডেগসহ মোট পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। দিনভর প্রকাশ্যে এসব দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। সন্ধ্যায় গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ জানানো হয়।
এ নিয়ে গত ২২ জুন থেকে চার দফায় মাজারের দানবাক্সে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪২ টাকা। নতুন ব্যবস্থাপনার আওতায় নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করায় মাজারের দানের অর্থের হিসাবও প্রকাশ্যে আসছে।
শনিবারের গণনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ ফিলস, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া মানতের অর্থের সঙ্গে মাজারের ডেগে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে লেখা একটি চিঠি, সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট, ছাত্রলীগের কমিটি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ‘খোকন মামু’র নামে লেখা একটি খোলা চিঠিও পাওয়া গেছে।
অর্থ গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়। তখন পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় দফায় গত ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে গণনা করলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল।
এর আগে ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যোগ করা হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, দানবাক্সের অর্থ গণনার বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাজারের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত-আশেকানরা আসেন। তারা দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। অনেকে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও মানত হিসেবে দিয়ে থাকেন।
মাজারের দীর্ঘদিনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ থাকলেও দানের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে মাজারের দান ও মানতের অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য সামগ্রী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। এসব অর্থ ও সামগ্রী বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গত ১১ জুন মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে দানের অর্থের হিসাব চান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন নতুন দানবাক্স স্থাপন, পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা এবং মাজারের অর্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ নেয়।
গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। ২২ জুন প্রথমবার দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। এরপর থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
সূত্র: জবাবদিহি

আপনার মতামত লিখুন