শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। পরিষদের সচিব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের সামনে বেশ কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেছেন।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি না দেওয়া, ইরান ও অঞ্চলটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা। এছাড়া যুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ সম্পদ কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলতে সম্মতি দেওয়ার আগে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ওয়াশিংটন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার জানান, নৌ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট রুট নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
আলোচনায় বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনকে দায়ী করেন আরাগচি।
মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছে, আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ চলছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনাগুলোরও নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।
বর্তমানে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। দেশটি প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার দাবি করছে। পাশাপাশি নিজেদের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে বারবার হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো ধরনের টোল আরোপের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি। তবে প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালির পরিচালনা নিয়ে ওমানের সঙ্গেও পৃথক একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার দাবি, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের জনগণের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি বজায় রয়েছে এবং এ যুদ্ধে দেশটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অংশ হিসেবেই ইরান ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অ্যাডনক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের এক ডজনের বেশি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। এসব হামলায় একজন ক্রু নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
পরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের খাসাব শহরের পূর্ব দিকে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজ ও এর সব ক্রু নিরাপদে রয়েছে। তবে এটি অ্যাডনকের জাহাজে হামলার একই ঘটনা কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। পরিষদের সচিব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের সামনে বেশ কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেছেন।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি না দেওয়া, ইরান ও অঞ্চলটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা। এছাড়া যুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ সম্পদ কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলতে সম্মতি দেওয়ার আগে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় ওয়াশিংটন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার জানান, নৌ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট রুট নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
আলোচনায় বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনকে দায়ী করেন আরাগচি।
মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছে, আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ চলছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনাগুলোরও নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।
বর্তমানে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। দেশটি প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার দাবি করছে। পাশাপাশি নিজেদের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে বারবার হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো ধরনের টোল আরোপের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি। তবে প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালির পরিচালনা নিয়ে ওমানের সঙ্গেও পৃথক একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার দাবি, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের জনগণের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি বজায় রয়েছে এবং এ যুদ্ধে দেশটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অংশ হিসেবেই ইরান ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অ্যাডনক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের এক ডজনের বেশি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। এসব হামলায় একজন ক্রু নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
পরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের খাসাব শহরের পূর্ব দিকে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজ ও এর সব ক্রু নিরাপদে রয়েছে। তবে এটি অ্যাডনকের জাহাজে হামলার একই ঘটনা কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন