ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাগদাদ ও রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে। এ সময় আল-জায়েদি আবারও স্পষ্ট করেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরাকের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বাগদাদ অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ২৯ জুলাই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সউদী আরবের যৌথ হামলার পর রিয়াদ সফর বাতিল করেছিলেন আল-জায়েদি। ওই হামলায় ইরানপন্থি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করা হয়। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছিল, হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
সউদী আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দেশটির তেল অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
তবে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এ যৌথ হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করে। হামলার পর বাগদাদে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দেয় এবং ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাড়ে।
এদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামে পরিচিত ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট যুক্তরাষ্ট্র ও সউদী আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তবে শুক্রবার তারা পাল্টা হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানায়। ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া নেতা হাদি আল-আমিরি এবং আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির আহ্বানের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে গোষ্ঠীটি কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া আল-জায়েদি ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও নির্ধারণ করেছেন তিনি। তবে শক্তিশালী কয়েকটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে তার এই উদ্যোগ জটিলতার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে ইরাককে প্রায়ই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করতে হয়। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-সউদী হামলা এবং ইরানপন্থি ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কার মধ্যেই বাগদাদ ও রিয়াদের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাগদাদ ও রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে। এ সময় আল-জায়েদি আবারও স্পষ্ট করেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরাকের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বাগদাদ অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ২৯ জুলাই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সউদী আরবের যৌথ হামলার পর রিয়াদ সফর বাতিল করেছিলেন আল-জায়েদি। ওই হামলায় ইরানপন্থি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করা হয়। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছিল, হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
সউদী আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দেশটির তেল অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
তবে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এ যৌথ হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করে। হামলার পর বাগদাদে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দেয় এবং ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাড়ে।
এদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামে পরিচিত ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট যুক্তরাষ্ট্র ও সউদী আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। তবে শুক্রবার তারা পাল্টা হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানায়। ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া নেতা হাদি আল-আমিরি এবং আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির আহ্বানের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে গোষ্ঠীটি কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া আল-জায়েদি ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও নির্ধারণ করেছেন তিনি। তবে শক্তিশালী কয়েকটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে তার এই উদ্যোগ জটিলতার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে ইরাককে প্রায়ই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করতে হয়। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-সউদী হামলা এবং ইরানপন্থি ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কার মধ্যেই বাগদাদ ও রিয়াদের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন