ঢাকা    রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আলেমদের দায়িত্ব কেবল মসজিদে ইমামতি, ওয়াজ-নসিহত বা খুতবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। জাতির সংকটময় সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা, নেতৃত্ব এবং আদর্শিক ভূমিকা পালনে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মতবিরোধ নয়, ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। প্রস্তাবনা উপস্থাপন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সেক্রেটারি এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. লুৎফুর রহমান মাদানী।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলেমদের চিন্তা ও মত সবসময় একই রকম হবে না। অতীতেও মতপার্থক্য ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। তবে মতের ভিন্নতার কারণে কাউকে অসম্মান করা উচিত নয়। কেউ সমালোচনা বা কটূক্তি করলেও তার জবাবে কটূক্তি না করে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের জন্য দোয়া করতে হবে এবং তার বক্তব্যে কোনো কল্যাণকর বিষয় থাকলে সেটি গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রচার বন্ধ করতে হবে। কেউ আক্রমণ করলেও পাল্টা আক্রমণের পথে না গিয়ে ধৈর্য ও সংযমের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

ইসলামি জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে আলিয়া ও কওমি—দুই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থারই প্রয়োজন রয়েছে। আলিয়া শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। অন্যদিকে কওমি শিক্ষায় শিক্ষিতরা দ্বীনের মৌলিকত্ব বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই কোনো একটি ধারাকে বাদ না দিয়ে দুই ধারার আলেম ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো জাতি জ্ঞান ও গবেষণায় যত বেশি অগ্রসর হয়, বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও তাদের তত বাড়ে। এজন্য আলেমসহ সবাইকে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় আরও মনোযোগী হতে হবে। ইসলামি জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণাকেও সমানভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও বিভিন্ন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং যথাযথ প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময়ের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য, গবেষণা, দক্ষতা ও প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, তারা যুদ্ধ চান না, শান্তি চান। তবে কেউ আক্রমণ চাপিয়ে দিলে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি থাকা দরকার। ইসলামের যুদ্ধনীতি মূলত আত্মরক্ষামূলক ছিল।

জামায়াত আমির বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিজয় নয়, তারা মানবতার বিজয় চান। মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর বিধান ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আলেমদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্ব আরও ঘনিষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পালন করতে হবে।

বর্তমান সমাজে মানুষের সম্মান, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে আলেমদের সোচ্চার হতে হবে। সত্যকে সত্য এবং অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে।

তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের কথা বললে বাধা আসতে পারে। কিন্তু এ কারণে হকের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাও যাবে না।

দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করে বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, পারস্পরিক সম্মান, ঐক্য, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি ও মর্যাদার মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে আলেমদের। মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, সমাজ পরিবর্তন কিংবা সভ্যতা ও পরিবারের পরিবর্তনে আলেমরা নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সমাজে ইসলামের বিভিন্ন বিধান ও ফরজ দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করে ইসলামের সঠিক শিক্ষা মানুষের সামনে তুলে ধরতে আলেমদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সাতটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদরাসা ও কলেজে ইসলামি শিক্ষা সংকুচিত করা বন্ধ করা, মাদরাসার নারী শিক্ষার্থীদের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নির্দেশ প্রত্যাহার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উলামা-মাশায়েখদের হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা বন্ধ করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের সব দেশের মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করা।

সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উলামা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আলেমদের দায়িত্ব কেবল মসজিদে ইমামতি, ওয়াজ-নসিহত বা খুতবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। জাতির সংকটময় সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা, নেতৃত্ব এবং আদর্শিক ভূমিকা পালনে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মতবিরোধ নয়, ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। প্রস্তাবনা উপস্থাপন ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সেক্রেটারি এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. লুৎফুর রহমান মাদানী।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলেমদের চিন্তা ও মত সবসময় একই রকম হবে না। অতীতেও মতপার্থক্য ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। তবে মতের ভিন্নতার কারণে কাউকে অসম্মান করা উচিত নয়। কেউ সমালোচনা বা কটূক্তি করলেও তার জবাবে কটূক্তি না করে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের জন্য দোয়া করতে হবে এবং তার বক্তব্যে কোনো কল্যাণকর বিষয় থাকলে সেটি গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রচার বন্ধ করতে হবে। কেউ আক্রমণ করলেও পাল্টা আক্রমণের পথে না গিয়ে ধৈর্য ও সংযমের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

ইসলামি জ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে আলিয়া ও কওমি—দুই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থারই প্রয়োজন রয়েছে। আলিয়া শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। অন্যদিকে কওমি শিক্ষায় শিক্ষিতরা দ্বীনের মৌলিকত্ব বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই কোনো একটি ধারাকে বাদ না দিয়ে দুই ধারার আলেম ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো জাতি জ্ঞান ও গবেষণায় যত বেশি অগ্রসর হয়, বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও তাদের তত বাড়ে। এজন্য আলেমসহ সবাইকে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় আরও মনোযোগী হতে হবে। ইসলামি জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণাকেও সমানভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও বিভিন্ন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং যথাযথ প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময়ের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য, গবেষণা, দক্ষতা ও প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, তারা যুদ্ধ চান না, শান্তি চান। তবে কেউ আক্রমণ চাপিয়ে দিলে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি থাকা দরকার। ইসলামের যুদ্ধনীতি মূলত আত্মরক্ষামূলক ছিল।

জামায়াত আমির বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিজয় নয়, তারা মানবতার বিজয় চান। মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর বিধান ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আলেমদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্ব আরও ঘনিষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পালন করতে হবে।

বর্তমান সমাজে মানুষের সম্মান, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে আলেমদের সোচ্চার হতে হবে। সত্যকে সত্য এবং অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে।

তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের কথা বললে বাধা আসতে পারে। কিন্তু এ কারণে হকের কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাও যাবে না।

দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করে বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, পারস্পরিক সম্মান, ঐক্য, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি ও মর্যাদার মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে আলেমদের। মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, সমাজ পরিবর্তন কিংবা সভ্যতা ও পরিবারের পরিবর্তনে আলেমরা নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সমাজে ইসলামের বিভিন্ন বিধান ও ফরজ দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করে ইসলামের সঠিক শিক্ষা মানুষের সামনে তুলে ধরতে আলেমদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সাতটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদরাসা ও কলেজে ইসলামি শিক্ষা সংকুচিত করা বন্ধ করা, মাদরাসার নারী শিক্ষার্থীদের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নির্দেশ প্রত্যাহার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উলামা-মাশায়েখদের হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা বন্ধ করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের সব দেশের মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করা।

সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উলামা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনামূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে: জামায়াত আমির
0:00 0:00
1.0x