আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তালেবান সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টির অনুমতিপত্র এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
১৪০৫ সৌর বছরের বসন্তকালীন সেমিস্টারে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক বছরের জন্য অনুমতিপত্র স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জওজজান প্রদেশের বারলাস বিশ্ববিদ্যালয়, বালখ প্রদেশের রাহে সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় ও তুর্কিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়।
এ ছাড়া বাদাখশান প্রদেশের আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও বারনা বিশ্ববিদ্যালয়, ফারিয়াব প্রদেশের রাশাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাবুলের পায়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্রও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুন্দুজের কোহানদুজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাখার প্রদেশের খানা-এ দানিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্র স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
খামা প্রেসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বাস্তবে অস্তিত্বহীন অথবা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের ‘ভুয়া শিক্ষার্থী’ হিসেবে দেখিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।
এ ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ অথবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য নয়—এমন শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো এবং শিক্ষাব্যবস্থাপনা যথেষ্ট কার্যকর ছিল না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ঘাটতি শনাক্ত করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত ছিল না। এতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয় অনুমোদিত পাঠ্যক্রম যথাযথভাবে পড়ানো হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাসের সময়সূচি থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। খামা প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শনের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ খালি পাওয়া যায়। অর্থাৎ কাগজে ক্লাসের সময়সূচি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেখানে শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব অনিয়মের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটির উচ্চশিক্ষা খাত বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের শিক্ষার ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।
তালেবান সরকার মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও আরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করেছে। এর ফলে আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এরই মধ্যে দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯টি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখানো, উপস্থিতির তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসুবিধার ঘাটতি।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তালেবান সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টির অনুমতিপত্র এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
১৪০৫ সৌর বছরের বসন্তকালীন সেমিস্টারে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক বছরের জন্য অনুমতিপত্র স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জওজজান প্রদেশের বারলাস বিশ্ববিদ্যালয়, বালখ প্রদেশের রাহে সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় ও তুর্কিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়।
এ ছাড়া বাদাখশান প্রদেশের আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও বারনা বিশ্ববিদ্যালয়, ফারিয়াব প্রদেশের রাশাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাবুলের পায়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্রও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুন্দুজের কোহানদুজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাখার প্রদেশের খানা-এ দানিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্র স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
খামা প্রেসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিদর্শনের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বাস্তবে অস্তিত্বহীন অথবা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের ‘ভুয়া শিক্ষার্থী’ হিসেবে দেখিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।
এ ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ অথবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য নয়—এমন শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো এবং শিক্ষাব্যবস্থাপনা যথেষ্ট কার্যকর ছিল না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ঘাটতি শনাক্ত করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত ছিল না। এতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয় অনুমোদিত পাঠ্যক্রম যথাযথভাবে পড়ানো হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাসের সময়সূচি থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। খামা প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শনের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ খালি পাওয়া যায়। অর্থাৎ কাগজে ক্লাসের সময়সূচি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেখানে শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব অনিয়মের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটির উচ্চশিক্ষা খাত বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের শিক্ষার ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে।
তালেবান সরকার মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও আরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করেছে। এর ফলে আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এরই মধ্যে দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯টি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখানো, উপস্থিতির তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসুবিধার ঘাটতি।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন