ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছাকাছি ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার।
কম্পন পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং এর আশপাশের শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সেখানে অন্তত ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনের ভেতরে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু পেরেইরা মহানগর এলাকাতেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, পেরেইরার প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এতে পুরো এলাকা ধ্বংসাবশেষ ও ধুলায় ঢেকে যায়। শহরের কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে।
পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন।
মানিজালেস শহরে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। শহরটির বেশ কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ইট ও প্লাস্টারও খসে পড়েছে। কুইবদো, মেডেলিন, চোকো এবং ভায়ে দেল কাওকা অঞ্চল থেকেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানী বোগোটাতেও ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। সেখানে গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল দুলতে দেখা যায়। কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দিলেও রাজধানীতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের প্রভাবে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগের পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহায়তার প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্ধার তৎপরতায় কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ভূমিকম্পটির শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল মাটির অনেক গভীরে। সাধারণভাবে গভীর ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম ক্ষতিকর হলেও শক্তিশালী কম্পনের কারণে ভবন ও অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছাকাছি ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার।
কম্পন পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং এর আশপাশের শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সেখানে অন্তত ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনের ভেতরে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু পেরেইরা মহানগর এলাকাতেই অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, পেরেইরার প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এতে পুরো এলাকা ধ্বংসাবশেষ ও ধুলায় ঢেকে যায়। শহরের কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে।
পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন।
মানিজালেস শহরে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। শহরটির বেশ কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ইট ও প্লাস্টারও খসে পড়েছে। কুইবদো, মেডেলিন, চোকো এবং ভায়ে দেল কাওকা অঞ্চল থেকেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানী বোগোটাতেও ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। সেখানে গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল দুলতে দেখা যায়। কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দিলেও রাজধানীতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের প্রভাবে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগের পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহায়তার প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্ধার তৎপরতায় কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ভূমিকম্পটির শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল মাটির অনেক গভীরে। সাধারণভাবে গভীর ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম ক্ষতিকর হলেও শক্তিশালী কম্পনের কারণে ভবন ও অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন