ঢাকা    রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ মুখ, ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আভাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ মুখ, ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আভাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ মুখ, ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আভাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের মহাসচিব পদ এবং মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ২০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিএনপির নতুন মহাসচিবের নাম ঘোষণা হতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভায়ও রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য ১৮০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জোর আলোচনা রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের প্রার্থী করার বিষয়টি। তিনি একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দল ও সরকার—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

পরিবর্তনের অংশ হিসেবে গত শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজন নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। তিনি সংগঠনটির প্রথম নির্বাচিত সভাপতিও ছিলেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১/১১-এর সংকটময় সময় এবং পরবর্তী দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আমান উল্লাহ আমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি, ছাত্রদলের সভাপতি, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার দেশের একজন পরিচিত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেল, নির্বাচন পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে দল এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

১৯ সদস্যের বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আগে ১৩ জন সদস্য ছিলেন। তাঁরা হলেন তারেক রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রেসিডেন্ট পদে দলের প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থিতা ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি দলীয় পদ ছেড়ে দেন। নতুন চারজন যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর স্থায়ী কমিটি ও বিএনপি মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি বর্তমানে শূন্য। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং সদ্য স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া রুহুল কবির রিজভীর নাম। দলের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাঁকে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

তবে এই পদের জন্য আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমদ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মহাসচিব পদত্যাগ করায় এবং এই মুহূর্তে দলের কাউন্সিল না থাকায় একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব নিতে পারেন। সাবেক মহাসচিবের পর সিনিয়রিটির ভিত্তিতে থাকা কোনো নেতা অথবা অন্য কোনো নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

দলীয় গঠনতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সাধারণত দলের চেয়ারম্যানই মহাসচিব মনোনীত করেন। পরে কাউন্সিলে তা অনুমোদন করা হয়। বর্তমানে কাউন্সিল না হওয়ায় চেয়ারম্যান যাকে মনোনীত করবেন, তিনি পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো কারণে মহাসচিব পদ শূন্য হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে ২০ মার্চ তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, বর্তমান মহাসচিব প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে ওই পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন। আবার দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান চাইলে অন্য কাউকেও এ পদে দায়িত্ব দিতে পারেন এবং পরে স্থায়ী কমিটির সভায় তা অনুমোদন করা হতে পারে।

মির্জা ফখরুল মহাসচিব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দলের স্থায়ী কমিটি ও একাধিক সূত্র জানায়, মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব, দলের প্রতি নিষ্ঠা, জিয়া পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনে অংশ নেননি এবং তাঁকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। তাই মহাসচিবের পদ শূন্য হওয়ার পর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন। দলের কঠিন সময়ে রিজভী রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন। গ্রেপ্তার ও হুমকিকে উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

মন্ত্রিসভায়ও পরিবর্তনের আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য ১৮০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। নির্ধারিত সময় শেষে তাঁদের কার্যক্রম মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে মন্ত্রীদের আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুলকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। সরকারের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা রয়েছে, ১৮০ দিনের মূল্যায়নে কিছু মন্ত্রীর কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট হলেও কয়েকজনের বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে।

এ কারণে কয়েকজন মন্ত্রীর মন্ত্রণালয় পরিবর্তন, কয়েকজনকে বাদ দেওয়া এবং নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার বিষয় রয়েছে। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রকিবুল ইসলাম বকুল ও গিয়াসউদ্দীন রিমনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদীন ফারুক, এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং শরিক দলের মধ্যে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় এসব পরিবর্তনের বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোতেও নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। গত বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। এক-দুই দিনের মধ্যেই সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনেও দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে বলে একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ মুখ, ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আভাস

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের মহাসচিব পদ এবং মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ২০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিএনপির নতুন মহাসচিবের নাম ঘোষণা হতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভায়ও রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য ১৮০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জোর আলোচনা রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের প্রার্থী করার বিষয়টি। তিনি একই সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দল ও সরকার—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

পরিবর্তনের অংশ হিসেবে গত শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজন নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। তিনি সংগঠনটির প্রথম নির্বাচিত সভাপতিও ছিলেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১/১১-এর সংকটময় সময় এবং পরবর্তী দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আমান উল্লাহ আমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি, ছাত্রদলের সভাপতি, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার দেশের একজন পরিচিত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেল, নির্বাচন পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে দল এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

১৯ সদস্যের বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আগে ১৩ জন সদস্য ছিলেন। তাঁরা হলেন তারেক রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রেসিডেন্ট পদে দলের প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থিতা ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি দলীয় পদ ছেড়ে দেন। নতুন চারজন যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর স্থায়ী কমিটি ও বিএনপি মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি বর্তমানে শূন্য। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং সদ্য স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া রুহুল কবির রিজভীর নাম। দলের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাঁকে মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

তবে এই পদের জন্য আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমদ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মহাসচিব পদত্যাগ করায় এবং এই মুহূর্তে দলের কাউন্সিল না থাকায় একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব নিতে পারেন। সাবেক মহাসচিবের পর সিনিয়রিটির ভিত্তিতে থাকা কোনো নেতা অথবা অন্য কোনো নেতাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

দলীয় গঠনতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সাধারণত দলের চেয়ারম্যানই মহাসচিব মনোনীত করেন। পরে কাউন্সিলে তা অনুমোদন করা হয়। বর্তমানে কাউন্সিল না হওয়ায় চেয়ারম্যান যাকে মনোনীত করবেন, তিনি পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো কারণে মহাসচিব পদ শূন্য হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে ২০ মার্চ তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, বর্তমান মহাসচিব প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে ওই পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন। আবার দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান চাইলে অন্য কাউকেও এ পদে দায়িত্ব দিতে পারেন এবং পরে স্থায়ী কমিটির সভায় তা অনুমোদন করা হতে পারে।

মির্জা ফখরুল মহাসচিব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দলের স্থায়ী কমিটি ও একাধিক সূত্র জানায়, মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব, দলের প্রতি নিষ্ঠা, জিয়া পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনে অংশ নেননি এবং তাঁকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। তাই মহাসচিবের পদ শূন্য হওয়ার পর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন। দলের কঠিন সময়ে রিজভী রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন। গ্রেপ্তার ও হুমকিকে উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

মন্ত্রিসভায়ও পরিবর্তনের আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য ১৮০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। নির্ধারিত সময় শেষে তাঁদের কার্যক্রম মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে মন্ত্রীদের আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুলকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়ে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। সরকারের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা রয়েছে, ১৮০ দিনের মূল্যায়নে কিছু মন্ত্রীর কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট হলেও কয়েকজনের বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে।

এ কারণে কয়েকজন মন্ত্রীর মন্ত্রণালয় পরিবর্তন, কয়েকজনকে বাদ দেওয়া এবং নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার বিষয় রয়েছে। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রকিবুল ইসলাম বকুল ও গিয়াসউদ্দীন রিমনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদীন ফারুক, এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং শরিক দলের মধ্যে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় এসব পরিবর্তনের বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোতেও নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। গত বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। এক-দুই দিনের মধ্যেই সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনেও দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে বলে একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ মুখ, ২০ আগস্টের পর মহাসচিব ও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আভাস
0:00 0:00
1.0x