গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র টানা ২৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং বেড়েছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ রোববার (১৬ আগস্ট) বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গত ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম ছিল। একপর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যাওয়ায় কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং জেলা শহরগুলোতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও খামারসহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে।
ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের ভ্যানচালক নাসির উদ্দিন বলেন, দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭-১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় তিন-চার ঘণ্টার আগে আসে না। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘুমানো এবং সন্তানদের পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তবে নগরবাসীর দাবি, বাস্তবে লোডশেডিংয়ের সময় আরও বেশি। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না।
কাঁচিঝুলি এলাকার নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার বলেন, আগে দিনে এক-দুবার লোডশেডিং হলেও বর্তমানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফা এবং রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ না থাকছে। এর সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে গ্যাসের সংকট—দুই সমস্যায় সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। সংকট কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কেন্দ্রটিতে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র টানা ২৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং বেড়েছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ রোববার (১৬ আগস্ট) বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে গত ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম ছিল। একপর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যাওয়ায় কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং জেলা শহরগুলোতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও খামারসহ বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে।
ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের ভ্যানচালক নাসির উদ্দিন বলেন, দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭-১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় তিন-চার ঘণ্টার আগে আসে না। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘুমানো এবং সন্তানদের পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তবে নগরবাসীর দাবি, বাস্তবে লোডশেডিংয়ের সময় আরও বেশি। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না।
কাঁচিঝুলি এলাকার নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার বলেন, আগে দিনে এক-দুবার লোডশেডিং হলেও বর্তমানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফা এবং রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ না থাকছে। এর সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে গ্যাসের সংকট—দুই সমস্যায় সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। সংকট কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কেন্দ্রটিতে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন