ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপ, ইরান কি নতি স্বীকার করবে?

ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপ, ইরান কি নতি স্বীকার করবে?
ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপ, ইরান কি নতি স্বীকার করবে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর দুই মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প। এবার সরাসরি সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেশটিকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে ট্রাম্প কতদিন এই কৌশলে অটল থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো দেশের ওপর নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে সামরিক অভিযান চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনায় ফেরাতে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েও সফল না হওয়ার পর ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনাকে অনেকটা মুখরক্ষার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। গত কয়েক মাসে ইরান বিষয়ে মার্কিন নীতিতে একাধিক পরিবর্তন ও কৌশলগত অবস্থান বদল দেখা গেছে।

ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করেছেন ট্রাম্প। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তার রাজনৈতিক মিত্রদের জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এখন দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথে এগোচ্ছেন। তার ধারণা, এই চাপ ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেশটির সরকারকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে।

বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। এর আগে কয়েক দিনের যুদ্ধের পর তিনি সংঘাতকে বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে।

এরপর আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প। ইরানকে সহায়তা করা ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পথ বন্ধ করার কথা বলেন।

তবে ইরান এত সহজে চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি টিকে আছে।

ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করা ড্যানিয়েল সিত্রিনোভিচের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এতে দেশটির কৌশল পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা কঠিন হলেও কেবল চাপ প্রয়োগের কারণে দেশটির নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বদলাবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো নেই।

ট্রাম্পকে কী পরিবর্তন করতে হবে?

ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ধৈর্য ধরে রাখা ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইরানও ধরে নিতে পারে, পরিকল্পনার ফল পাওয়ার আগেই ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপের কৌশল থেকে সরে আসতে পারেন।

কার্যকর অর্থনৈতিক অবরোধ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন প্রয়োজন। ইরানের জাহাজ ও বন্দর অবরোধে হোয়াইট হাউস সামরিক শক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। তবে ইরানকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করতে উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির কিছু সুযোগও রয়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুডোভিক হুড ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের আয় কমাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।

চীনের ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ব্যাংক ইরানের অবৈধ তেল বিক্রির লেনদেনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাই ওই সফরের আগে চীনের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে তিনি কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনায় অটল থাকবেন ট্রাম্প?

অর্থনৈতিক চাপের কৌশল চালিয়ে যেতে চাইলেও ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর দুই মাসের কিছু বেশি সময় বাকি থাকায় ইরান এই রাজনৈতিক সময়কে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত করতে ইরান ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর ফলে মার্কিন ভোটারদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষও তীব্র হতে পারে।

ট্রাম্প পাল্টা হামলা চালালে সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কোনো পদক্ষেপ না নিলে তাকে দুর্বল হিসেবে দেখানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক—দুই ধরনের যুদ্ধেই ট্রাম্পের সামনে রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরাও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেখছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জেমস ওয়াকিনশ বলেছেন, এমন অর্থনৈতিক যুদ্ধে তিনি আগ্রহী নন, যেখানে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের খরচ মার্কিন জনগণকে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের মাধ্যমে বহন করতে হবে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পরও ইরান সংকটের কোনো স্পষ্ট সমাধান এখনো সামনে আসেনি। শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন হলো—যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতা কি ইরানের সরকারের আগেই মার্কিন জনগণের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে?

সূত্র: সিএনএন

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপ, ইরান কি নতি স্বীকার করবে?

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর দুই মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প। এবার সরাসরি সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেশটিকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকলে ট্রাম্প কতদিন এই কৌশলে অটল থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো দেশের ওপর নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে সামরিক অভিযান চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনায় ফেরাতে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েও সফল না হওয়ার পর ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনাকে অনেকটা মুখরক্ষার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। গত কয়েক মাসে ইরান বিষয়ে মার্কিন নীতিতে একাধিক পরিবর্তন ও কৌশলগত অবস্থান বদল দেখা গেছে।

ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করেছেন ট্রাম্প। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তার রাজনৈতিক মিত্রদের জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এখন দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথে এগোচ্ছেন। তার ধারণা, এই চাপ ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেশটির সরকারকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে।

বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। এর আগে কয়েক দিনের যুদ্ধের পর তিনি সংঘাতকে বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে।

এরপর আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প। ইরানকে সহায়তা করা ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পথ বন্ধ করার কথা বলেন।

তবে ইরান এত সহজে চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি টিকে আছে।

ইসরাইলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করা ড্যানিয়েল সিত্রিনোভিচের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এতে দেশটির কৌশল পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা কঠিন হলেও কেবল চাপ প্রয়োগের কারণে দেশটির নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বদলাবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো নেই।

ট্রাম্পকে কী পরিবর্তন করতে হবে?

ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ধৈর্য ধরে রাখা ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইরানও ধরে নিতে পারে, পরিকল্পনার ফল পাওয়ার আগেই ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপের কৌশল থেকে সরে আসতে পারেন।

কার্যকর অর্থনৈতিক অবরোধ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন প্রয়োজন। ইরানের জাহাজ ও বন্দর অবরোধে হোয়াইট হাউস সামরিক শক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। তবে ইরানকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করতে উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির কিছু সুযোগও রয়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুডোভিক হুড ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের আয় কমাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।

চীনের ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ব্যাংক ইরানের অবৈধ তেল বিক্রির লেনদেনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাই ওই সফরের আগে চীনের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে তিনি কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনায় অটল থাকবেন ট্রাম্প?

অর্থনৈতিক চাপের কৌশল চালিয়ে যেতে চাইলেও ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর দুই মাসের কিছু বেশি সময় বাকি থাকায় ইরান এই রাজনৈতিক সময়কে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত করতে ইরান ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে জ্বালানি ও পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর ফলে মার্কিন ভোটারদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষও তীব্র হতে পারে।

ট্রাম্প পাল্টা হামলা চালালে সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কোনো পদক্ষেপ না নিলে তাকে দুর্বল হিসেবে দেখানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক—দুই ধরনের যুদ্ধেই ট্রাম্পের সামনে রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরাও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেখছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জেমস ওয়াকিনশ বলেছেন, এমন অর্থনৈতিক যুদ্ধে তিনি আগ্রহী নন, যেখানে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের খরচ মার্কিন জনগণকে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের মাধ্যমে বহন করতে হবে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পরও ইরান সংকটের কোনো স্পষ্ট সমাধান এখনো সামনে আসেনি। শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন হলো—যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতা কি ইরানের সরকারের আগেই মার্কিন জনগণের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে?

সূত্র: সিএনএন


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপ, ইরান কি নতি স্বীকার করবে?
0:00 0:00
1.0x