বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের আগে টেলিফোনে গণমাধ্যমকে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান বিএনপির এই দলীয় প্রার্থী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোটের পর তিনিই বাংলাদেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন—বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যার স্বপ্ন তিনি মনে মনে দেখছেন। সেই বাংলাদেশ হবে সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। সেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী এবং দিনে এনে দিনে খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবেন। তারা সুস্থ পরিবেশে বসবাসের পাশাপাশি নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত জীবনযাপন করতে পারবেন। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে এবং জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশিরা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে সক্ষম হবে। তার বিশ্বাস ও প্রত্যাশা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রথমেই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করতে চান। যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি পাশে ছিলেন এবং সুখে-দুঃখে যাদের সঙ্গে ছিলেন, সেই দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি জানিয়ে তিনি বলেন, তার নেতৃত্বেই ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’-এর গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি অনেক কিছু মিস করবেন। কিছু বিষয় স্মরণ করলে আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবার ভালো থাকা, সুস্থ থাকা ও নিরাপদ থাকার জন্য দোয়া করেন তিনি। পাশাপাশি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই দিনে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা। এই মহীয়সী নারী নেত্রীর সান্নিধ্য ও স্নেহ পাওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার কথা মনে পড়লে আবেগে স্পর্শ করেন এবং শিহরণ জাগে।
বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় বেগম খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।
২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়ও সদস্য ছিলেন মির্জা ফখরুল। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য।
আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দুপুর ২টায় তিনি ভোট দিতে সংসদে যাবেন এবং ভোট দেবেন।
কয়েক দিন ধরে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের নেতা-কর্মীরা তাকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করছেন। মির্জা ফখরুল তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এবং নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছেন।
গতকাল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অংশ নেন। এটিই ছিল তার শেষ সভা।
সূত্র: মানবজমিন।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের আগে টেলিফোনে গণমাধ্যমকে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান বিএনপির এই দলীয় প্রার্থী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভোটের পর তিনিই বাংলাদেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন—বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যার স্বপ্ন তিনি মনে মনে দেখছেন। সেই বাংলাদেশ হবে সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। সেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী এবং দিনে এনে দিনে খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবেন। তারা সুস্থ পরিবেশে বসবাসের পাশাপাশি নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত জীবনযাপন করতে পারবেন। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে এবং জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশিরা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে সক্ষম হবে। তার বিশ্বাস ও প্রত্যাশা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রথমেই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করতে চান। যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি পাশে ছিলেন এবং সুখে-দুঃখে যাদের সঙ্গে ছিলেন, সেই দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি জানিয়ে তিনি বলেন, তার নেতৃত্বেই ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’-এর গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি অনেক কিছু মিস করবেন। কিছু বিষয় স্মরণ করলে আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবার ভালো থাকা, সুস্থ থাকা ও নিরাপদ থাকার জন্য দোয়া করেন তিনি। পাশাপাশি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই দিনে তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা। এই মহীয়সী নারী নেত্রীর সান্নিধ্য ও স্নেহ পাওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার কথা মনে পড়লে আবেগে স্পর্শ করেন এবং শিহরণ জাগে।
বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় বেগম খালেদা জিয়া তাকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।
২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়ও সদস্য ছিলেন মির্জা ফখরুল। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য।
আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দুপুর ২টায় তিনি ভোট দিতে সংসদে যাবেন এবং ভোট দেবেন।
কয়েক দিন ধরে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের নেতা-কর্মীরা তাকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় করছেন। মির্জা ফখরুল তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এবং নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছেন।
গতকাল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অংশ নেন। এটিই ছিল তার শেষ সভা।
সূত্র: মানবজমিন।

আপনার মতামত লিখুন