ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান সম্প্রতি ডিএমপি সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, শুধু সড়ক নয়, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও আকস্মিকভাবে যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে যানজটের কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গেলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া সহজ হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ড্রোনে শব্দ বা কণ্ঠস্বরের ব্যবস্থা থাকলে ঘটনাস্থল থেকেই চালকদের সতর্ক করা সম্ভব হবে। কোনো যানবাহন রাস্তা আটকে রাখলে ড্রোনের মাধ্যমে চালককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করা হলে আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্তের পাশাপাশি প্রমাণ সংরক্ষণ ও মামলা করার প্রক্রিয়াও সহজ হবে।
তবে ড্রোন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয় মামলা দেওয়ার পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি ডিএমপি। আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে ড্রোনে ধারণ করা ফুটেজ প্রথমে কর্মকর্তারা বিশ্লেষণ করবেন। আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মামলা করা হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে গণপরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কথাও উল্লেখ করেছেন। তার মতে, অনেক বাস নির্ধারিত যাত্রীছাউনিতে না থেমে বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনে থাকা সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বাস মালিকদের নির্দিষ্ট দৈনিক অর্থ দেওয়ার চাপ এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রে চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আনিছুর রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনার আওতায় গণপরিবহন পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না থাকায় যাত্রী সংগ্রহের জন্য বাসগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। এ সমস্যা কমাতে ই-টিকিটিং এবং বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকর করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি রাজধানীতে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। ডিএমপি এআই ক্যামেরার সাহায্যে সিগন্যাল অমান্য, লেন ভঙ্গ, বিপরীত পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করছে। জুনের শেষ নাগাদ এআইভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মামলা এবং ৩৮ হাজার নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ডিএমপি।
এ ছাড়া কম খরচে রাজধানীতে নজরদারি বাড়াতে প্রায় ১ হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের কাজও চলছে। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পরবর্তী সময়ে বিশ্লেষণ করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে এআই ক্যামেরা, সাধারণ নজরদারি ক্যামেরা এবং ড্রোন—তিন ধরনের প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ড্রোন পরিচালনার জন্য ডিএমপি সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তেজগাঁও বিভাগের একটি দল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে এর কার্যকারিতা, খরচ, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করা হবে।
আনিছুর রহমান বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের জন্য ইন্টারনেট, সার্ভারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দরকার। এসব ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যয়ের বিষয়টিও রয়েছে। তাই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করার পর এর পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান সম্প্রতি ডিএমপি সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, শুধু সড়ক নয়, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও আকস্মিকভাবে যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে যানজটের কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গেলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া সহজ হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ড্রোনে শব্দ বা কণ্ঠস্বরের ব্যবস্থা থাকলে ঘটনাস্থল থেকেই চালকদের সতর্ক করা সম্ভব হবে। কোনো যানবাহন রাস্তা আটকে রাখলে ড্রোনের মাধ্যমে চালককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করা হলে আইন ভঙ্গকারী যানবাহন শনাক্তের পাশাপাশি প্রমাণ সংরক্ষণ ও মামলা করার প্রক্রিয়াও সহজ হবে।
তবে ড্রোন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয় মামলা দেওয়ার পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি ডিএমপি। আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে ড্রোনে ধারণ করা ফুটেজ প্রথমে কর্মকর্তারা বিশ্লেষণ করবেন। আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মামলা করা হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে গণপরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কথাও উল্লেখ করেছেন। তার মতে, অনেক বাস নির্ধারিত যাত্রীছাউনিতে না থেমে বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনে থাকা সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বাস মালিকদের নির্দিষ্ট দৈনিক অর্থ দেওয়ার চাপ এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রে চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আনিছুর রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনার আওতায় গণপরিবহন পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না থাকায় যাত্রী সংগ্রহের জন্য বাসগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে। এ সমস্যা কমাতে ই-টিকিটিং এবং বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকর করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি রাজধানীতে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। ডিএমপি এআই ক্যামেরার সাহায্যে সিগন্যাল অমান্য, লেন ভঙ্গ, বিপরীত পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করছে। জুনের শেষ নাগাদ এআইভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মামলা এবং ৩৮ হাজার নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ডিএমপি।
এ ছাড়া কম খরচে রাজধানীতে নজরদারি বাড়াতে প্রায় ১ হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের কাজও চলছে। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পরবর্তী সময়ে বিশ্লেষণ করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে এআই ক্যামেরা, সাধারণ নজরদারি ক্যামেরা এবং ড্রোন—তিন ধরনের প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ড্রোন পরিচালনার জন্য ডিএমপি সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তেজগাঁও বিভাগের একটি দল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে এর কার্যকারিতা, খরচ, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করা হবে।
আনিছুর রহমান বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের জন্য ইন্টারনেট, সার্ভারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দরকার। এসব ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যয়ের বিষয়টিও রয়েছে। তাই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করার পর এর পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন