পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং একজন চিকিৎসকসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল ইমরান খানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে তারা তাকে ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করেন। হাসপাতাল অবস্থানের পুরো সময় ইমরানের বোন উজমা খান তার সঙ্গে ছিলেন বলেও জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার আদালত কর্তৃপক্ষকে দুই দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন এবং সেই বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসককে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের ওই নির্দেশের আগে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে ১০ আগস্টের কার্ডিয়াক বোর্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়, ইমরানের রক্তচাপ ওঠানামা করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের কারণে তিনি উদ্বেগেও ভুগছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও এর আশপাশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকশ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। হাসপাতালের আশপাশের সড়কেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
ইমরানের পরিবার এবং তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দীর্ঘদিন ধরে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আদালতে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবে এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে এমন দুটি আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। এরপর ২০২৩ সালের আগস্টে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি-সংক্রান্ত একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি আরও কয়েকটি মামলায় সাজা পেয়েছেন। ইমরান খান ও তার দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে রাখার পর ইমরান খানকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার চিকিৎসা এবং কারাবন্দি অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে পিটিআই ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য ডন

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং একজন চিকিৎসকসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল ইমরান খানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে তারা তাকে ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করেন। হাসপাতাল অবস্থানের পুরো সময় ইমরানের বোন উজমা খান তার সঙ্গে ছিলেন বলেও জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার আদালত কর্তৃপক্ষকে দুই দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন এবং সেই বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসককে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের ওই নির্দেশের আগে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে ১০ আগস্টের কার্ডিয়াক বোর্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়, ইমরানের রক্তচাপ ওঠানামা করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের কারণে তিনি উদ্বেগেও ভুগছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও এর আশপাশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকশ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। হাসপাতালের আশপাশের সড়কেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
ইমরানের পরিবার এবং তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দীর্ঘদিন ধরে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আদালতে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবে এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে এমন দুটি আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। এরপর ২০২৩ সালের আগস্টে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি-সংক্রান্ত একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি আরও কয়েকটি মামলায় সাজা পেয়েছেন। ইমরান খান ও তার দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে রাখার পর ইমরান খানকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার চিকিৎসা এবং কারাবন্দি অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে পিটিআই ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য ডন

আপনার মতামত লিখুন