নেতানিয়াহুর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য জানায়। সেখানে তুরস্কের আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম, দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি আঙ্কারার সমর্থনের সমালোচনা করা হয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এরদোয়ান কুর্দিদের হত্যা করেছেন, হামাসের সদস্যদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং সাইপ্রাসের একটি অংশ দখলে রেখেছেন। পাশাপাশি তার বিরোধিতা করা অনেক সাংবাদিক ও রাজনীতিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আরও অভিযোগ, এরদোয়ান এবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন সিরিয়াতেও বিস্তৃত করতে চাইছেন। ইসরায়েল এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তুরস্ক আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে এই উদ্যোগেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের নেতা ও সেনাদের ভয় দেখানোর জন্য এরদোয়ানের এই প্রচেষ্টা কোনো ফল দেবে না। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র ‘সত্যিকারের গণতন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে তুরস্কের আইনমন্ত্রী আকিন গুরলেক ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তা আফেক মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন।
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র ওপর সশস্ত্র অভিযান চালানোর অভিযোগে ইস্তাম্বুলের একটি ফৌজদারি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এই আবেদন করা হয়। মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংস সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তুরস্কের আইনমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করে খুঁজে বের করা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করার কার্যক্রম শুরু করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গুরলেক বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম চলছে। ইস্তাম্বুলের ফৌজদারি আদালতে চলমান মামলায় নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচসহ মোট ৩৫ জনের বিচার চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদনও করা হয়েছে।
তুরস্কের আইনমন্ত্রী বলেন, গাজায় গণহত্যার নীতি বাস্তবায়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা জবাবদিহির বাইরে থাকবেন—এমন কোনো ধারণা তুরস্ক মেনে নেবে না। গাজায় সংঘটিত অপরাধ আড়াল করা কিংবা এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে বলেও উল্লেখ করেন গুরলেক।
তুরস্কের অভিযোগপত্রে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের আটক ও আটকে রাখার ঘটনায় বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, গুরুতর লুটপাট এবং পরিবহন যানবাহন ছিনতাই।
সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
নেতানিয়াহুর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য জানায়। সেখানে তুরস্কের আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম, দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি আঙ্কারার সমর্থনের সমালোচনা করা হয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, এরদোয়ান কুর্দিদের হত্যা করেছেন, হামাসের সদস্যদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং সাইপ্রাসের একটি অংশ দখলে রেখেছেন। পাশাপাশি তার বিরোধিতা করা অনেক সাংবাদিক ও রাজনীতিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আরও অভিযোগ, এরদোয়ান এবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন সিরিয়াতেও বিস্তৃত করতে চাইছেন। ইসরায়েল এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তুরস্ক আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে এই উদ্যোগেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের নেতা ও সেনাদের ভয় দেখানোর জন্য এরদোয়ানের এই প্রচেষ্টা কোনো ফল দেবে না। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র ‘সত্যিকারের গণতন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে তুরস্কের আইনমন্ত্রী আকিন গুরলেক ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তা আফেক মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন।
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র ওপর সশস্ত্র অভিযান চালানোর অভিযোগে ইস্তাম্বুলের একটি ফৌজদারি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এই আবেদন করা হয়। মামলায় মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংস সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তুরস্কের আইনমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করে খুঁজে বের করা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করার কার্যক্রম শুরু করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গুরলেক বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম চলছে। ইস্তাম্বুলের ফৌজদারি আদালতে চলমান মামলায় নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচসহ মোট ৩৫ জনের বিচার চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদনও করা হয়েছে।
তুরস্কের আইনমন্ত্রী বলেন, গাজায় গণহত্যার নীতি বাস্তবায়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা জবাবদিহির বাইরে থাকবেন—এমন কোনো ধারণা তুরস্ক মেনে নেবে না। গাজায় সংঘটিত অপরাধ আড়াল করা কিংবা এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে বলেও উল্লেখ করেন গুরলেক।
তুরস্কের অভিযোগপত্রে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের আটক ও আটকে রাখার ঘটনায় বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, গুরুতর লুটপাট এবং পরিবহন যানবাহন ছিনতাই।
সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন