পুলিশ ও ওই ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর সে একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত। তবে ঘটনার দিন তার পড়া ছিল না। বেলা ২টার দিকে ক্লাস শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে একজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার আগে সে শৌচাগারের দিকে যায়। সেখানে প্রবেশের আগে পেছন থেকে কেউ তাকে আঘাত করে বলে জানায় ওই ছাত্রী।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছাত্রীটি জানায়, আঘাতের পর চিৎকার করতে গেলে তার মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরা হয় এবং নাকে কোনো একটি পদার্থ স্প্রে করা হয়। এরপর সে আংশিক অচেতন হয়ে পড়ে। তবে তখনও কিছুটা জ্ঞান ছিল। সে আরও অনুভব করে, কেউ একজন ব্লেড দিয়ে তার হাতে আঘাত করছিল। হামলাকারীদের নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিল বলেও জানায় সে।
পরে জ্ঞান ফিরে এলে সে বুঝতে পারে, তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা। এ সময় কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দও শুনতে পায়। হাত বাঁধা অবস্থায় সে দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। পরে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজে থাকা শ্রমিকেরা শৌচাগারের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ওই ছাত্রী জানায়, হামলাকারীদের কাউকে সে দেখতে পারেনি। তবে তাদের কণ্ঠস্বর শুনলে শনাক্ত করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, চলতি বছর বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়েছে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষকেরা অভিভাবকদের বাড়িতে গিয়ে জানাচ্ছেন। এ কারণে টিফিনের পর বেলা ২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক বলেন, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন শিক্ষক আলাদাভাবে পড়াচ্ছিলেন। তিনি নিজে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছিলেন। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশব্লকে কারও সাড়া না পেয়ে সেখানে তালা লাগিয়ে তাকে বিষয়টি জানান। শিক্ষার্থীদের পড়ানো ওই শিক্ষকও বিকেল ৪টার দিকে কলাপসিবল গেট বন্ধ করে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত। বিদ্যালয়ে মোট নয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে বারান্দার দুটি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার বিষয়ে ফুটেজ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন জানান, ছাত্রীটি হামলাকারীদের দেখতে পারেনি। ফলে তাদের সম্পর্কে বেশি তথ্যও দিতে পারেনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো ছাত্রীর পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।
ওসি হাওলাদার সানওয়ার হোসেন আরও বলেন, ছাত্রীর বাবা একসময় একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। আর্থিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। তদন্তে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীর হাতে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। কীভাবে এসব ক্ষত হয়েছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
সূত্র: আরটিভি

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
পুলিশ ও ওই ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর সে একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ত। তবে ঘটনার দিন তার পড়া ছিল না। বেলা ২টার দিকে ক্লাস শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে একজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার আগে সে শৌচাগারের দিকে যায়। সেখানে প্রবেশের আগে পেছন থেকে কেউ তাকে আঘাত করে বলে জানায় ওই ছাত্রী।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছাত্রীটি জানায়, আঘাতের পর চিৎকার করতে গেলে তার মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরা হয় এবং নাকে কোনো একটি পদার্থ স্প্রে করা হয়। এরপর সে আংশিক অচেতন হয়ে পড়ে। তবে তখনও কিছুটা জ্ঞান ছিল। সে আরও অনুভব করে, কেউ একজন ব্লেড দিয়ে তার হাতে আঘাত করছিল। হামলাকারীদের নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিল বলেও জানায় সে।
পরে জ্ঞান ফিরে এলে সে বুঝতে পারে, তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা। এ সময় কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দও শুনতে পায়। হাত বাঁধা অবস্থায় সে দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। পরে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজে থাকা শ্রমিকেরা শৌচাগারের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ওই ছাত্রী জানায়, হামলাকারীদের কাউকে সে দেখতে পারেনি। তবে তাদের কণ্ঠস্বর শুনলে শনাক্ত করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, চলতি বছর বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয়েছে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষকেরা অভিভাবকদের বাড়িতে গিয়ে জানাচ্ছেন। এ কারণে টিফিনের পর বেলা ২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক বলেন, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন শিক্ষক আলাদাভাবে পড়াচ্ছিলেন। তিনি নিজে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছিলেন। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশব্লকে কারও সাড়া না পেয়ে সেখানে তালা লাগিয়ে তাকে বিষয়টি জানান। শিক্ষার্থীদের পড়ানো ওই শিক্ষকও বিকেল ৪টার দিকে কলাপসিবল গেট বন্ধ করে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত। বিদ্যালয়ে মোট নয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে বারান্দার দুটি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার বিষয়ে ফুটেজ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন জানান, ছাত্রীটি হামলাকারীদের দেখতে পারেনি। ফলে তাদের সম্পর্কে বেশি তথ্যও দিতে পারেনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো ছাত্রীর পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।
ওসি হাওলাদার সানওয়ার হোসেন আরও বলেন, ছাত্রীর বাবা একসময় একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। আর্থিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। তদন্তে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীর হাতে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। কীভাবে এসব ক্ষত হয়েছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
সূত্র: আরটিভি

আপনার মতামত লিখুন