ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কথিত ‘দরবেশ চক্র’ এসব অর্থ আদায়ের পেছনে রয়েছে। তাদের দাবি, এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী আলমের গুম মামলার আসামিও রয়েছেন বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, আগের সরকারের সময়ও এসব ব্যক্তি বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের প্রভাব কমেনি। বরং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে তারা আবার সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে কারও নাম বলতে রাজি নন। অভিযোগ করতে গিয়েও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, নাম প্রকাশ করে অভিযোগ করলে ব্যবসার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান পরিচালনার নিয়মিত ব্যয়ের বাইরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। কখনো দোকানের সামনের জায়গা ব্যবহারের কথা বলে, কখনো নিরাপত্তার অজুহাতে আবার কখনো মার্কেট ব্যবস্থাপনা বা অন্যান্য সুবিধার নামে এসব টাকা নেওয়া হয়।
তাদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট সময় পরপর টাকা দাবি করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণও নির্ধারিত থাকে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে সবসময় সরাসরি হুমকি দেওয়া না হলেও এমন চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে ব্যবসা চালু রাখার স্বার্থে অনেকেই নীরবে টাকা দিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিনের বিক্রি অনিশ্চিত থাকলেও দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ-পানি ও অন্যান্য খরচ তাদের বহন করতে হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার চাপ যুক্ত হলে ব্যবসার মূলধনেও সংকট তৈরি হয়।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যবসা করতে গেলে এমনিতেই অনেক খরচ আছে। এর বাইরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেকে নীরব থাকেন।’
অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার হিসাব কোথায়? বৈধ ফি হলে রসিদ থাকার কথা এবং নির্দিষ্ট খাতও থাকার কথা। কিন্তু সব টাকার ক্ষেত্রে আমরা এমন স্বচ্ছতা দেখি না। এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।’
প্রতিদিন শত শত দোকান থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ সংগ্রহ করা হলে মোট পরিমাণ কত দাঁড়ায়, সেই প্রশ্নও উঠেছে। কারা এসব অর্থ সংগ্রহ করছেন, কোন খাতে তা ব্যয় হচ্ছে, ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হচ্ছে কি না এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিপরীতে রসিদ দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, মার্কেট পরিচালনার নামে নেওয়া অর্থ বৈধ হলে এর হিসাব থাকার কথা। নির্দিষ্ট খাত, অনুমোদন ও রসিদও থাকার কথা। কোনো অর্থের বৈধ ভিত্তি না থাকলে তা নিয়মিতভাবে কীভাবে আদায় করা হচ্ছে, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুলিস্তানের প্রতিটি মার্কেটে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, প্রকাশ্যে নাম বলতে না পারলেও অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম, আদায়ের পরিমাণ, কোন খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে—এসব তথ্য প্রশাসনের কাছে দেওয়া সম্ভব।
এরপর প্রশাসন অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।
এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই। প্রশাসন আমাদের কাছ থেকেই তথ্য সংগ্রহ করুক। আমরা নাম প্রকাশ্যে না বললেও অভিযোগ বাক্সে সব তথ্য দিতে পারব। প্রশাসন সেগুলো যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বের হবে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কারও সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চান না। নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করাই তাদের একমাত্র চাওয়া। তবে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ ও প্রভাবের কারণে অনেকেই নিজেদের অভিযোগ প্রকাশ্যে বলতে পারছেন না।
তাদের মতে, গুলিস্তানের বিভিন্ন মার্কেটে অর্থ আদায়ের অভিযোগ কেবল চাঁদাবাজির বিষয় নয়। এর সঙ্গে হাজারো ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা, জীবিকা এবং স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করার অধিকারও জড়িত।
এ কারণে কার নামের সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, শুধু সেটি মুখ্য নয় বলে মনে করছেন তারা। বরং কত টাকা আদায় হচ্ছে, কার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এই আর্থিক প্রবাহ অনুসন্ধান করাই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রশাসন প্রতিটি মার্কেটে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করে সেখানে জমা পড়া অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেপথ্যের অর্থ আদায়ের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সূত্র: ভয়েস বাংলা

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কথিত ‘দরবেশ চক্র’ এসব অর্থ আদায়ের পেছনে রয়েছে। তাদের দাবি, এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী আলমের গুম মামলার আসামিও রয়েছেন বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, আগের সরকারের সময়ও এসব ব্যক্তি বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের প্রভাব কমেনি। বরং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে তারা আবার সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে কারও নাম বলতে রাজি নন। অভিযোগ করতে গিয়েও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, নাম প্রকাশ করে অভিযোগ করলে ব্যবসার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান পরিচালনার নিয়মিত ব্যয়ের বাইরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। কখনো দোকানের সামনের জায়গা ব্যবহারের কথা বলে, কখনো নিরাপত্তার অজুহাতে আবার কখনো মার্কেট ব্যবস্থাপনা বা অন্যান্য সুবিধার নামে এসব টাকা নেওয়া হয়।
তাদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট সময় পরপর টাকা দাবি করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণও নির্ধারিত থাকে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে সবসময় সরাসরি হুমকি দেওয়া না হলেও এমন চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে ব্যবসা চালু রাখার স্বার্থে অনেকেই নীরবে টাকা দিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিনের বিক্রি অনিশ্চিত থাকলেও দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ-পানি ও অন্যান্য খরচ তাদের বহন করতে হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার চাপ যুক্ত হলে ব্যবসার মূলধনেও সংকট তৈরি হয়।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যবসা করতে গেলে এমনিতেই অনেক খরচ আছে। এর বাইরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেকে নীরব থাকেন।’
অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার হিসাব কোথায়? বৈধ ফি হলে রসিদ থাকার কথা এবং নির্দিষ্ট খাতও থাকার কথা। কিন্তু সব টাকার ক্ষেত্রে আমরা এমন স্বচ্ছতা দেখি না। এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।’
প্রতিদিন শত শত দোকান থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ সংগ্রহ করা হলে মোট পরিমাণ কত দাঁড়ায়, সেই প্রশ্নও উঠেছে। কারা এসব অর্থ সংগ্রহ করছেন, কোন খাতে তা ব্যয় হচ্ছে, ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হচ্ছে কি না এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিপরীতে রসিদ দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, মার্কেট পরিচালনার নামে নেওয়া অর্থ বৈধ হলে এর হিসাব থাকার কথা। নির্দিষ্ট খাত, অনুমোদন ও রসিদও থাকার কথা। কোনো অর্থের বৈধ ভিত্তি না থাকলে তা নিয়মিতভাবে কীভাবে আদায় করা হচ্ছে, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুলিস্তানের প্রতিটি মার্কেটে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, প্রকাশ্যে নাম বলতে না পারলেও অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম, আদায়ের পরিমাণ, কোন খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে—এসব তথ্য প্রশাসনের কাছে দেওয়া সম্ভব।
এরপর প্রশাসন অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।
এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই। প্রশাসন আমাদের কাছ থেকেই তথ্য সংগ্রহ করুক। আমরা নাম প্রকাশ্যে না বললেও অভিযোগ বাক্সে সব তথ্য দিতে পারব। প্রশাসন সেগুলো যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বের হবে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কারও সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চান না। নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করাই তাদের একমাত্র চাওয়া। তবে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ ও প্রভাবের কারণে অনেকেই নিজেদের অভিযোগ প্রকাশ্যে বলতে পারছেন না।
তাদের মতে, গুলিস্তানের বিভিন্ন মার্কেটে অর্থ আদায়ের অভিযোগ কেবল চাঁদাবাজির বিষয় নয়। এর সঙ্গে হাজারো ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা, জীবিকা এবং স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করার অধিকারও জড়িত।
এ কারণে কার নামের সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, শুধু সেটি মুখ্য নয় বলে মনে করছেন তারা। বরং কত টাকা আদায় হচ্ছে, কার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এই আর্থিক প্রবাহ অনুসন্ধান করাই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রশাসন প্রতিটি মার্কেটে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করে সেখানে জমা পড়া অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেপথ্যের অর্থ আদায়ের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
সূত্র: ভয়েস বাংলা

আপনার মতামত লিখুন