সম্প্রতি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর একতরফা বক্তব্য এবং দায়ের করা যৌতুক মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন হাবিবুর রহমান মিসবাহ্।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে ছাত্রজীবনের স্বল্পমেয়াদি বৈবাহিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বিচ্ছেদের বিষয় সামনে এনে সামাজিক ও মানসিকভাবে তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে করা যৌতুকের মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যৌতুক দাবি করার মতো কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না—সেটা দেশবাসী জানেন। তবে যেহেতু মামলা হয়েছে, আমি আইনিভাবেই তা মোকাবেলা করব।’
মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে নয়টি বিয়ে ও পরকীয়ার মতো অভিযোগকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে দ্বিতীয় স্ত্রীর আইনজীবীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
ঘটনার পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে দাবি করে মিসবাহ্ বলেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁর অজান্তে দ্বিতীয় স্ত্রী নাইমা জান্নাত তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ ডিভাইস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। একই সময়ে বেডরুমে গোপন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ওই ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
৫ আগস্টের পর থেকে তাঁর স্ত্রী দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান মিসবাহ্। এ অবস্থায় সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রসঙ্গে মিসবাহ্ বলেন, কুয়াকাটা ও ঢাকায় থাকা ‘৩১৩ এগ্রো ফার্ম’ ও ‘গোল্ডেন রিসোর্ট’-এর ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করাই ওই চক্রের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত বিতর্কের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল, কওমি অঙ্গন বা ইসলামি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর সরকারি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে অডিট করা হয় এবং ভ্যাট-ট্যাক্স রিটার্নও হালনাগাদ থাকে। কোনো বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বা হিসাব দেওয়া হয়নি—এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তাঁকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান মিসবাহ্ বলেন, তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে আদালতের মাধ্যমে আগের একটি মিথ্যা অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। এ সময় কওমি অভিভাবক ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ভিত্তিহীন ও একপেশে দাবি করে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে মিসবাহ্ দাবি করেন, কওমি পরিচয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ব্যবসায়িক সফলতা—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই আইনি ও পারিবারিক জটিলতার নাটক সাজানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবেলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: এনপিবি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
সম্প্রতি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর একতরফা বক্তব্য এবং দায়ের করা যৌতুক মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন হাবিবুর রহমান মিসবাহ্।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে ছাত্রজীবনের স্বল্পমেয়াদি বৈবাহিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বিচ্ছেদের বিষয় সামনে এনে সামাজিক ও মানসিকভাবে তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে করা যৌতুকের মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যৌতুক দাবি করার মতো কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না—সেটা দেশবাসী জানেন। তবে যেহেতু মামলা হয়েছে, আমি আইনিভাবেই তা মোকাবেলা করব।’
মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে নয়টি বিয়ে ও পরকীয়ার মতো অভিযোগকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে দ্বিতীয় স্ত্রীর আইনজীবীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
ঘটনার পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে দাবি করে মিসবাহ্ বলেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁর অজান্তে দ্বিতীয় স্ত্রী নাইমা জান্নাত তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ ডিভাইস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। একই সময়ে বেডরুমে গোপন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ওই ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
৫ আগস্টের পর থেকে তাঁর স্ত্রী দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান মিসবাহ্। এ অবস্থায় সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রসঙ্গে মিসবাহ্ বলেন, কুয়াকাটা ও ঢাকায় থাকা ‘৩১৩ এগ্রো ফার্ম’ ও ‘গোল্ডেন রিসোর্ট’-এর ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করাই ওই চক্রের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত বিতর্কের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল, কওমি অঙ্গন বা ইসলামি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর সরকারি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে অডিট করা হয় এবং ভ্যাট-ট্যাক্স রিটার্নও হালনাগাদ থাকে। কোনো বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বা হিসাব দেওয়া হয়নি—এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তাঁকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান মিসবাহ্ বলেন, তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে আদালতের মাধ্যমে আগের একটি মিথ্যা অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। এ সময় কওমি অভিভাবক ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ভিত্তিহীন ও একপেশে দাবি করে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে মিসবাহ্ দাবি করেন, কওমি পরিচয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ব্যবসায়িক সফলতা—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই আইনি ও পারিবারিক জটিলতার নাটক সাজানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবেলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: এনপিবি

আপনার মতামত লিখুন