কার্নি জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশ পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছিল। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত সামনে আনে, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটন ‘অনেক বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে’।
কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব কানাডা গ্রহণ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র যে বিষয়গুলো চেয়েছে, সেগুলোও দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপকে কানাডার ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আক্রমণের জবাব দিতে হয় এবং কানাডার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে তিন দিন ধরে চলা দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা শুক্রবার (২১ আগস্ট) কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। এই শুল্ক কানাডার যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশকে প্রভাবিত করবে।
নতুন মার্কিন শুল্কের আওতায় মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক শুল্ক আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন কার্নি। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতের মার্কিন পণ্য এ শুল্কের আওতায় থাকবে। তবে কোন কোন পণ্যে কত শুল্ক আরোপ করা হবে, তার বিস্তারিত তালিকা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আগে আলোচনা হওয়া বিষয়গুলো থেকে সরে গিয়ে কানাডা শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু দাবি উত্থাপন করেছিল। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আপাতত নতুন করে আলোচনার জন্য কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
তবে কার্নি এই অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কানাডা নতুন কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়নি। বরং আলোচনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করার পরও যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যা কানাডার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের বিরোধিতা করেছেন কানাডার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড ইবি বলেছেন, কানাডার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সক্ষমতা সীমিত করে—এমন কোনো মার্কিন দাবি মেনে নেওয়া হবে না।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়ের পয়লিয়েভরও নতুন মার্কিন শুল্ককে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ দুই দেশকে আবার আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। কুইবেকের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিন ফ্রেশেত নতুন শুল্কের কারণে কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে কার্যকর উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তিন দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য এই চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। বর্তমানে চুক্তিটির পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলায় সাম্প্রতিক শুল্ক বিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন আর আগের অবস্থায় নেই। তাই মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজে বের করতে হবে কানাডাকে। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক ও কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, এএফপি

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
কার্নি জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশ পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছিল। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত সামনে আনে, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটন ‘অনেক বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে’।
কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব কানাডা গ্রহণ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র যে বিষয়গুলো চেয়েছে, সেগুলোও দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপকে কানাডার ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আক্রমণের জবাব দিতে হয় এবং কানাডার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনে তিন দিন ধরে চলা দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা শুক্রবার (২১ আগস্ট) কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। এই শুল্ক কানাডার যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশকে প্রভাবিত করবে।
নতুন মার্কিন শুল্কের আওতায় মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক শুল্ক আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন কার্নি। ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতের মার্কিন পণ্য এ শুল্কের আওতায় থাকবে। তবে কোন কোন পণ্যে কত শুল্ক আরোপ করা হবে, তার বিস্তারিত তালিকা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আগে আলোচনা হওয়া বিষয়গুলো থেকে সরে গিয়ে কানাডা শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু দাবি উত্থাপন করেছিল। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আপাতত নতুন করে আলোচনার জন্য কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
তবে কার্নি এই অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কানাডা নতুন কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়নি। বরং আলোচনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করার পরও যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যা কানাডার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের বিরোধিতা করেছেন কানাডার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড ইবি বলেছেন, কানাডার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সক্ষমতা সীমিত করে—এমন কোনো মার্কিন দাবি মেনে নেওয়া হবে না।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়ের পয়লিয়েভরও নতুন মার্কিন শুল্ককে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ দুই দেশকে আবার আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। কুইবেকের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টিন ফ্রেশেত নতুন শুল্কের কারণে কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে কার্যকর উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তিন দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য এই চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। বর্তমানে চুক্তিটির পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলায় সাম্প্রতিক শুল্ক বিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন আর আগের অবস্থায় নেই। তাই মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজে বের করতে হবে কানাডাকে। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক ও কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, এএফপি

আপনার মতামত লিখুন