ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ, কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা

রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ, কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা
রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ, কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আগমনের নয় বছর পূর্ণ হয়ে সংকটটি দশম বছরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে একসময় রোহিঙ্গারা নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। তবে অর্থের সংকট এখন বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে।

সিয়াম বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ক্রমেই কমছে। এ কারণে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৯০-এর দশক থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে কানাডাভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খান বলেন, বর্তমানে বিশ্বে একাধিক আন্তর্জাতিক সংকট চলায় রোহিঙ্গা সংকট অনেকটাই মানুষের মনোযোগের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন দেশ ও দাতাদের কাছ থেকে যেভাবে সহায়তা পাওয়া যেত, এখন আর সেভাবে সহায়তা আসছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শরণার্থীশিবিরগুলোর জীবনযাত্রায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

মাহমুদা খান মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ এই সংকটের কথা মানুষ ভুলে গেলে আন্তর্জাতিক সহায়তাও আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এর প্রভাব শুধু শরণার্থীশিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

২০১৭ সালে কুতুপালং শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ৩০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা হোসাইন জোহরের বক্তব্যেও শিবিরের কঠিন পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, অনেকের জন্য বর্তমান রেশন পর্যাপ্ত নয়। তাই রেশনের পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: কালবেলা

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ, কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আগমনের নয় বছর পূর্ণ হয়ে সংকটটি দশম বছরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে একসময় রোহিঙ্গারা নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। তবে অর্থের সংকট এখন বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে।

সিয়াম বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ক্রমেই কমছে। এ কারণে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৯০-এর দশক থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে কানাডাভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খান বলেন, বর্তমানে বিশ্বে একাধিক আন্তর্জাতিক সংকট চলায় রোহিঙ্গা সংকট অনেকটাই মানুষের মনোযোগের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন দেশ ও দাতাদের কাছ থেকে যেভাবে সহায়তা পাওয়া যেত, এখন আর সেভাবে সহায়তা আসছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শরণার্থীশিবিরগুলোর জীবনযাত্রায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

মাহমুদা খান মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ এই সংকটের কথা মানুষ ভুলে গেলে আন্তর্জাতিক সহায়তাও আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এর প্রভাব শুধু শরণার্থীশিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

২০১৭ সালে কুতুপালং শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ৩০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা হোসাইন জোহরের বক্তব্যেও শিবিরের কঠিন পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, অনেকের জন্য বর্তমান রেশন পর্যাপ্ত নয়। তাই রেশনের পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: কালবেলা


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ, কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা
0:00 0:00
1.0x