শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি ব্রিকসের নিজস্ব কর্মসূচির চেয়েও ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বার্তার কারণে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে, ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, শি জিনপিংয়ের সফর সেই প্রক্রিয়ায় নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি অবগত ভারতের একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা বর্তমানে হোটেল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রটোকল চূড়ান্ত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবার চীন সফর করেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তসংক্রান্ত নতুন একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাক্যবিনিময়ও হয়েছে।
ভারতের দুটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে আসতে পারে। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ২০০ জনের কম।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায় খুঁজবেন। পাশাপাশি সীমান্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং ভারত ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রিকস সহযোগিতাকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বর্তমান সভাপতি হিসেবে এ বছরের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে চীন সমর্থন করে।
তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে বর্তমানে তাদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি শি জিনপিং।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীন—দুটিই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের বড় একটি অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত নয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই তা বিরোধপূর্ণ।
দশকের পর দশক সীমান্তে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও ২০২০ সালের সংঘর্ষে সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহত হন। এরপর চার বছর ধরে সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা চলে।
শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা সরিয়ে নেওয়া বা বিচ্ছিন্নকরণসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।
তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীনের সেনা টহলদল মুখোমুখি হয়েছিল বলে খবর প্রকাশের পর গত ১২ আগস্ট ভারত জানায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ভারত ও চীন এখনো একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি দুই দেশের মধ্যে একটি অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এ অবস্থায় শি জিনপিংয়ের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এমন ইঙ্গিতও দিতে পারে যে, কোনো পক্ষই চায় না বাইরের চাপ ব্রিকস বা ভারত-চীন সম্পর্কের পারস্পরিক সহযোগিতাকে দুর্বল করে দিক।
সূত্র: এনডিটিভি

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি ব্রিকসের নিজস্ব কর্মসূচির চেয়েও ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বার্তার কারণে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে, ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, শি জিনপিংয়ের সফর সেই প্রক্রিয়ায় নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি অবগত ভারতের একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা বর্তমানে হোটেল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রটোকল চূড়ান্ত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবার চীন সফর করেন। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তসংক্রান্ত নতুন একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাক্যবিনিময়ও হয়েছে।
ভারতের দুটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে আসতে পারে। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ২০০ জনের কম।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায় খুঁজবেন। পাশাপাশি সীমান্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং ভারত ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রিকস সহযোগিতাকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বর্তমান সভাপতি হিসেবে এ বছরের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে চীন সমর্থন করে।
তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে বর্তমানে তাদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি শি জিনপিং।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীন—দুটিই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের বড় একটি অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত নয় এবং দীর্ঘদিন ধরেই তা বিরোধপূর্ণ।
দশকের পর দশক সীমান্তে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও ২০২০ সালের সংঘর্ষে সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহত হন। এরপর চার বছর ধরে সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা চলে।
শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা সরিয়ে নেওয়া বা বিচ্ছিন্নকরণসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।
তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় ভারত ও চীনের সেনা টহলদল মুখোমুখি হয়েছিল বলে খবর প্রকাশের পর গত ১২ আগস্ট ভারত জানায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ভারত ও চীন এখনো একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি দুই দেশের মধ্যে একটি অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এ অবস্থায় শি জিনপিংয়ের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এমন ইঙ্গিতও দিতে পারে যে, কোনো পক্ষই চায় না বাইরের চাপ ব্রিকস বা ভারত-চীন সম্পর্কের পারস্পরিক সহযোগিতাকে দুর্বল করে দিক।
সূত্র: এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন