ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

বিশেষ সংবাদ

১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, রামুর অনন্য পরিবার

১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, রামুর অনন্য পরিবার

কক্সবাজারের রামুতে একই পরিবারের ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক—বিরল এই সাফল্যে পরিবারটি এখন স্থানীয়ভাবে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, পারিবারিক সহযোগিতা ও সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবারের গল্পকে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই অর্জনে পরিবারটি গর্বিত। শুধু পরিবার নয়, এমন সাফল্য অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।

কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এ অঞ্চলে নারীশিক্ষা পিছিয়ে ছিল।

এমন বাস্তবতায় উলামিয়া সামাজিক বাধা ও প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে তাঁর কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে উলামিয়া শুধু নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেননি; বরং সমাজ ও দেশের জন্যও একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।

মাফরুহা সুলতানা আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের মায়েদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, তাদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ ও সহযোগিতা এবং পরিবারের জন্য দীর্ঘদিনের ত্যাগ এই অর্জনের অন্যতম ভিত্তি।

তিনি বলেন, একটি পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে শুধু বাবার ভূমিকা নয়, মায়ের নিরলস শ্রম ও ত্যাগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করা এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার ফলেই এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে পরিবারটি আজ রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তারাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

এই পরিবারের সাফল্যকে শুধু একটি পরিবারের অর্জন হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। বরং এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্ব এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, রামুর অনন্য পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image




কক্সবাজারের রামুতে একই পরিবারের ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক—বিরল এই সাফল্যে পরিবারটি এখন স্থানীয়ভাবে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, পারিবারিক সহযোগিতা ও সন্তানদের অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পরিবারের গল্পকে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


হানিফ মিয়া বলেন, একই পরিবারের আটজন সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা। তাদের এই অর্জনে পরিবারটি গর্বিত। শুধু পরিবার নয়, এমন সাফল্য অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।


কক্সবাজারে নারীশিক্ষার পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং রামুর কৃতী সন্তান মাফরুহা সুলতানা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কারণে এ অঞ্চলে নারীশিক্ষা পিছিয়ে ছিল।


এমন বাস্তবতায় উলামিয়া সামাজিক বাধা ও প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে তাঁর কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে উলামিয়া শুধু নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেননি; বরং সমাজ ও দেশের জন্যও একাধিক শিক্ষিত মানুষ তৈরি করেছেন।


মাফরুহা সুলতানা আরও বলেন, এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের মায়েদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের লালন-পালন, তাদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ ও সহযোগিতা এবং পরিবারের জন্য দীর্ঘদিনের ত্যাগ এই অর্জনের অন্যতম ভিত্তি।


তিনি বলেন, একটি পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে শুধু বাবার ভূমিকা নয়, মায়ের নিরলস শ্রম ও ত্যাগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করা এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকার ফলেই এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।


স্থানীয়দের মতে, একজন বাবার দূরদর্শিতা, মায়ের ত্যাগ এবং সন্তানদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে পরিবারটি আজ রামুর মানুষের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।


বিশেষ করে ১৩ মেয়ের মধ্যে আটজনের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া প্রমাণ করে, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ও পরিবারের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তারাও পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।


এই পরিবারের সাফল্যকে শুধু একটি পরিবারের অর্জন হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। বরং এটি নারীশিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের দায়িত্ব এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার অনুপ্রেরণার গল্প।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১৩ মেয়ের মধ্যে ৮ জনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, রামুর অনন্য পরিবার
0:00 0:00
1.0x