ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

এলএনজি আমদানি ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা

এলএনজি আমদানি ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
এলএনজি আমদানি ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা

গ্যাসের ঘাটতি পূরণে আরও কয়েকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এরই মধ্যে একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় থাকা টার্মিনালগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি নির্মাণ করা হলে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের ধারণা, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারদর বিবেচনায় এ অবস্থায় বছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। আর বর্তমান স্পট বাজারের দাম ধরে হিসাব করলে এ ব্যয় দেড় লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণে ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন সময়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরকারি ভর্তুকি, বিদেশি ঋণ এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের (জিডিএফ) অর্থ ব্যবহার করতে হয়েছে পেট্রোবাংলাকে।

অন্যদিকে টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সময় দুর্ঘটনা, কারিগরি ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঘটনাও রয়েছে।

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। শিল্পকারখানার উৎপাদনও কমেছে। আবাসিক গ্রাহকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবিষ্যতের গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং নতুন টার্মিনাল নির্মাণ সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এই দুটি টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সক্ষমতার আরও দুটি টার্মিনাল নির্মাণ হলে মোট সরবরাহ সক্ষমতা বেড়ে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে ১১৩টি এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর বাইরে ভর্তুকি হিসেবে দিতে হয়েছে আরও ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন দুটি টার্মিনাল চালু হলে এলএনজি আমদানি ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা, আমদানির পরিমাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে প্রকৃত ব্যয় কমবেশি হতে পারে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, চারটি টার্মিনাল চালু হলে বছরে এলএনজি আমদানিতে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস আমদানি শুরু হলে স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কেনার প্রয়োজন কমবে। এতে ব্যয় কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে প্রতিবন্ধকতার কারণে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি কমে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কিনে চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এ খাতে ভর্তুকি হিসেবে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই পেট্রোবাংলা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি নিয়েছে।

জ্বালানি খাত নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশে নতুন গ্যাসের আবিষ্কার সীমিত থাকলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্থির থাকলে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতি এমএমবিটিইউ ১২ ডলার ধরে এই ব্যয়ের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানির ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পরিকল্পিত টার্মিনালগুলো চালু হলে ২০৩০ সাল নাগাদ এলএনজি আমদানির জন্য অন্তত ৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এই ব্যয় বহন করা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়েছে। জাপান-কোরিয়া মার্কেট (জেকেএম) সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২২ ডলার ৯৪ সেন্টের বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ দাম প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলার ৭২ সেন্ট।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সম্প্রতি দুটি এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে একটির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার এবং অন্যটির দাম ২৪ দশমিক ২৫ ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেনা কার্গোগুলোর দাম ছিল প্রায় ১০ ডলার।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ব্যয়বহুল। স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়াতে হবে।

তাঁর মতে, নতুন দুটি টার্মিনাল চালু হলে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ন্যূনতম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি এলএনজি আমদানির অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলা ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে। নতুন কূপ থেকে দেশীয় গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হলে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


এলএনজি আমদানি ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গ্যাসের ঘাটতি পূরণে আরও কয়েকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এরই মধ্যে একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় থাকা টার্মিনালগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি নির্মাণ করা হলে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের ধারণা, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারদর বিবেচনায় এ অবস্থায় বছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। আর বর্তমান স্পট বাজারের দাম ধরে হিসাব করলে এ ব্যয় দেড় লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণে ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন সময়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরকারি ভর্তুকি, বিদেশি ঋণ এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের (জিডিএফ) অর্থ ব্যবহার করতে হয়েছে পেট্রোবাংলাকে।

অন্যদিকে টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সময় দুর্ঘটনা, কারিগরি ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঘটনাও রয়েছে।

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। শিল্পকারখানার উৎপাদনও কমেছে। আবাসিক গ্রাহকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবিষ্যতের গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং নতুন টার্মিনাল নির্মাণ সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এই দুটি টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সক্ষমতার আরও দুটি টার্মিনাল নির্মাণ হলে মোট সরবরাহ সক্ষমতা বেড়ে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে ১১৩টি এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর বাইরে ভর্তুকি হিসেবে দিতে হয়েছে আরও ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন দুটি টার্মিনাল চালু হলে এলএনজি আমদানি ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা, আমদানির পরিমাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে প্রকৃত ব্যয় কমবেশি হতে পারে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, চারটি টার্মিনাল চালু হলে বছরে এলএনজি আমদানিতে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস আমদানি শুরু হলে স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কেনার প্রয়োজন কমবে। এতে ব্যয় কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে প্রতিবন্ধকতার কারণে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি কমে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কিনে চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এ খাতে ভর্তুকি হিসেবে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই পেট্রোবাংলা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি নিয়েছে।

জ্বালানি খাত নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশে নতুন গ্যাসের আবিষ্কার সীমিত থাকলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্থির থাকলে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতি এমএমবিটিইউ ১২ ডলার ধরে এই ব্যয়ের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানির ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পরিকল্পিত টার্মিনালগুলো চালু হলে ২০৩০ সাল নাগাদ এলএনজি আমদানির জন্য অন্তত ৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এই ব্যয় বহন করা বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়েছে। জাপান-কোরিয়া মার্কেট (জেকেএম) সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২২ ডলার ৯৪ সেন্টের বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ দাম প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলার ৭২ সেন্ট।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সম্প্রতি দুটি এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে একটির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার এবং অন্যটির দাম ২৪ দশমিক ২৫ ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেনা কার্গোগুলোর দাম ছিল প্রায় ১০ ডলার।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ব্যয়বহুল। স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়াতে হবে।

তাঁর মতে, নতুন দুটি টার্মিনাল চালু হলে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ন্যূনতম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। এ কারণে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি এলএনজি আমদানির অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলা ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে। নতুন কূপ থেকে দেশীয় গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হলে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ কিছুটা কমবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এলএনজি আমদানি ব্যয় বছরে ছাড়াতে পারে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা
0:00 0:00
1.0x