নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো ইরান থেকে তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবেই নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই অভিযানকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে উল্লেখ করেছে।
ওয়াশিংটনের নীতির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনী এবং জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। ভারতের চার কোম্পানির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকেও সেই নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে তার প্রশাসন দেশটিকে বিভিন্ন সুযোগ ও ছাড় দিয়েছে। কিন্তু ইরান চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করা হচ্ছে।
ট্রাম্প এটিকে অর্থনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে নজিরবিহীন মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো দেশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা করলে তাদেরও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ লেনদেন, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানি ব্যবহারের মতো কার্যক্রম বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোর্টেজ পার্টনার্স ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে সরাসরি জড়িত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির বিরুদ্ধেও একই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি তেলজাত পণ্য আমদানি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
একই সময়ে পিআর সফটটেক প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি করে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রশান্ত গর্গও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন।
এ ছাড়া প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করেছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি থেকে পাওয়া রাজস্ব পুরোপুরি বন্ধ করা।
নিষেধাজ্ঞার বিধান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অথবা কোনো মার্কিন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সূত্র: এএনআই, এনডিটিভি

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো ইরান থেকে তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবেই নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই অভিযানকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে উল্লেখ করেছে।
ওয়াশিংটনের নীতির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইরানের সামরিক বাহিনী এবং জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। ভারতের চার কোম্পানির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকেও সেই নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে তার প্রশাসন দেশটিকে বিভিন্ন সুযোগ ও ছাড় দিয়েছে। কিন্তু ইরান চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করা হচ্ছে।
ট্রাম্প এটিকে অর্থনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে নজিরবিহীন মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো দেশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা করলে তাদেরও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ লেনদেন, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানি ব্যবহারের মতো কার্যক্রম বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোর্টেজ পার্টনার্স ভারতে বিপুল পরিমাণ ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে সরাসরি জড়িত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির বিরুদ্ধেও একই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি তেলজাত পণ্য আমদানি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
একই সময়ে পিআর সফটটেক প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি করে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক প্রশান্ত গর্গও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছেন।
এ ছাড়া প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি পণ্য আমদানি করেছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি থেকে পাওয়া রাজস্ব পুরোপুরি বন্ধ করা।
নিষেধাজ্ঞার বিধান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অথবা কোনো মার্কিন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সূত্র: এএনআই, এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন