শনিবার (২৯ আগস্ট) কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আমিনুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, মুক্ত ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার সুযোগ না থাকলে দেশ ও গণতন্ত্রের অগ্রগতি সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সুরক্ষা এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাংবাদিকরা বর্তমানে বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। তবে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ এখনো শেষ হয়নি। বিভিন্ন কারণে দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও পেশাগত অনিরাপত্তার কারণে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
বিএফইউজের মহাসচিব আরও বলেন, সাংবাদিকদের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার ঘাটতিও বড় সমস্যা। পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকেও কখনো এমন চাপ আসে, যা সাংবাদিকদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য নিরাপত্তার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, ভালো কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না। অনেক প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের বেতন মালিকের গাড়িচালকের বেতনের চেয়েও কম। এসব পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। সরকারকে ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ নীতি কার্যকর হলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা কেবল চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা, সব ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত এবং বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের কণ্ঠ দুর্বল হয়ে পড়লে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষার কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নিয়মিত মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের এই নেতা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সরকারকে সত্য ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করার সুযোগও সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে দেখা হয়। সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যদি কলম হয়, তাহলে কলম থামিয়ে দেওয়া শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ স্তব্ধ করা নয়; এর মাধ্যমে সত্য প্রকাশের পরিসরও সংকুচিত হয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা আসলে সমাজের বিবেকের ওপর আঘাত। কোনো সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পায়।
তিনি আরও বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে এর প্রভাব শুধু ওই সাংবাদিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সত্য জানা সত্ত্বেও অনেকে তা প্রকাশ করতে সাহস পাবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘কলমকে থামানো যায়, সত্যকে নয়।’
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
শনিবার (২৯ আগস্ট) কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আমিনুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, মুক্ত ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার সুযোগ না থাকলে দেশ ও গণতন্ত্রের অগ্রগতি সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সুরক্ষা এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাংবাদিকরা বর্তমানে বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। তবে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ এখনো শেষ হয়নি। বিভিন্ন কারণে দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও পেশাগত অনিরাপত্তার কারণে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
বিএফইউজের মহাসচিব আরও বলেন, সাংবাদিকদের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার ঘাটতিও বড় সমস্যা। পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকেও কখনো এমন চাপ আসে, যা সাংবাদিকদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য নিরাপত্তার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, ভালো কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না। অনেক প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের বেতন মালিকের গাড়িচালকের বেতনের চেয়েও কম। এসব পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। সরকারকে ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ নীতি কার্যকর হলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা কেবল চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা, সব ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত এবং বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের কণ্ঠ দুর্বল হয়ে পড়লে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষার কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নিয়মিত মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের এই নেতা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সরকারকে সত্য ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করার সুযোগও সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে দেখা হয়। সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যদি কলম হয়, তাহলে কলম থামিয়ে দেওয়া শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ স্তব্ধ করা নয়; এর মাধ্যমে সত্য প্রকাশের পরিসরও সংকুচিত হয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা আসলে সমাজের বিবেকের ওপর আঘাত। কোনো সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পায়।
তিনি আরও বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে এর প্রভাব শুধু ওই সাংবাদিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সত্য জানা সত্ত্বেও অনেকে তা প্রকাশ করতে সাহস পাবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘কলমকে থামানো যায়, সত্যকে নয়।’
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন