বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তার বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’
শনিবার রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে অতীতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল কমিশন গঠন করলেই গুমের সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিচার ও প্রতিকার পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ করা হয়েছে। এ আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি এবং তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ফিরে না এলে তার উত্তরাধিকারীরা যেন সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।
দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও আইনে রয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনটি নিয়ে কারও পরামর্শ কিংবা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইনটি সংশোধন করা যাবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারে কাজ করছে। বাহিনীগুলোর মনোবল ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী, গোয়েন্দা সহায়তা এবং সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাহিনীর ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন। তিনি বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করা হয়েছে।
নূর খান লিটন বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা দেখতে পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ অস্বীকার করতে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অতীতে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে নূর খান লিটন বলেন, গুমের শিকার একজন ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে কাটান। রাজনৈতিক কারণে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
নতুন আইন প্রসঙ্গে নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের দায়িত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত বাহিনীর অধীনে থাকা উচিত নয়। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে, পুলিশের বাইরে কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।
মিরাজ শেখের ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগে গুমের শিকার পরিবারগুলো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটালেও এখন তারা সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালন করছেন। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের গুমবিরোধী এবং মানবাধিকার কমিশন আইন করেছে। এতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, প্রধান মাস্টারমাইন্ডরা কারাগারে রয়েছে। সঠিক বিচারের মাধ্যমে গুমের এই সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান হবে।
সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অভিযোগ করেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর ধারা স্বাধীন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি অবিলম্বে এসব ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
গুমের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত তহবিল ও জনবল নিশ্চিত করার কথাও বলেন আহমাদ বিন কাসেম। পাশাপাশি গুমের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানি ও বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার সুযোগও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি তাদের ব্যাংক হিসাব নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের ভয় দেখানো হয়েছে। এখন প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্তব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মেয়ে আদিবা ইসলাম। তিনি বলেন, তার বাবার শেষ পরিণতি কী হয়েছে, সেটি তারা জানতে চান। বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাবা কোথায় আছেন, কেমন আছেন—কোনোটিই তারা জানেন না।
তিনি বলেন, দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে তারা ক্লান্ত। এভাবে অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে আর থাকতে চান না তারা। বাবার বিষয়ে দ্রুত একটি জবাব চান তারা।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন, নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান এবং গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীর সমন্বয় করে নেত্র নিউজ।
সূত্র: সুখবর

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তার বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’
শনিবার রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে অতীতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল কমিশন গঠন করলেই গুমের সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিচার ও প্রতিকার পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ করা হয়েছে। এ আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি এবং তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ফিরে না এলে তার উত্তরাধিকারীরা যেন সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।
দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও আইনে রয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনটি নিয়ে কারও পরামর্শ কিংবা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইনটি সংশোধন করা যাবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারে কাজ করছে। বাহিনীগুলোর মনোবল ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী, গোয়েন্দা সহায়তা এবং সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাহিনীর ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন। তিনি বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করা হয়েছে।
নূর খান লিটন বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা দেখতে পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ অস্বীকার করতে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অতীতে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে নূর খান লিটন বলেন, গুমের শিকার একজন ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে কাটান। রাজনৈতিক কারণে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
নতুন আইন প্রসঙ্গে নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের দায়িত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত বাহিনীর অধীনে থাকা উচিত নয়। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে, পুলিশের বাইরে কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।
মিরাজ শেখের ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগে গুমের শিকার পরিবারগুলো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটালেও এখন তারা সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালন করছেন। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের গুমবিরোধী এবং মানবাধিকার কমিশন আইন করেছে। এতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, প্রধান মাস্টারমাইন্ডরা কারাগারে রয়েছে। সঠিক বিচারের মাধ্যমে গুমের এই সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান হবে।
সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অভিযোগ করেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর ধারা স্বাধীন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি অবিলম্বে এসব ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
গুমের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত তহবিল ও জনবল নিশ্চিত করার কথাও বলেন আহমাদ বিন কাসেম। পাশাপাশি গুমের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানি ও বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার সুযোগও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি তাদের ব্যাংক হিসাব নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের ভয় দেখানো হয়েছে। এখন প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্তব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মেয়ে আদিবা ইসলাম। তিনি বলেন, তার বাবার শেষ পরিণতি কী হয়েছে, সেটি তারা জানতে চান। বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাবা কোথায় আছেন, কেমন আছেন—কোনোটিই তারা জানেন না।
তিনি বলেন, দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে তারা ক্লান্ত। এভাবে অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে আর থাকতে চান না তারা। বাবার বিষয়ে দ্রুত একটি জবাব চান তারা।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন, নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান এবং গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীর সমন্বয় করে নেত্র নিউজ।
সূত্র: সুখবর

আপনার মতামত লিখুন