এর মাধ্যমে মেলোনি ধনকুবের ও মিডিয়া ব্যবসায়ী সিলভিও বারলুসকোনির একটি রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। তবে বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি সময়, প্রায় নয় বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড এখনো বারলুসকোনির দখলে রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরে ইতালিতে মোট ৬৮টি সরকার গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি সরকার প্রায় ১৩ মাস করে ক্ষমতায় থেকেছে।
নিজের এই রেকর্ড উদযাপন করতে মেলোনি ও তাঁর কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই) শুক্রবার দক্ষিণ ইতালির পুগলিয়া অঞ্চলের বন্দরনগরী বারিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এ উপলক্ষে প্রায় ৮০টি কোচে করে সমর্থকদের বারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যায় আয়োজিত সমাবেশে মেলোনির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও আন্তোনিও তাজানি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালের ইতালির নির্বাচন সামনে রেখে এই আয়োজনকে কার্যত প্রচারণার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মেলোনি সরকার দাবি করেছে, চার বছরের শাসনামলে দেশে ১০ লাখ কর্মসংস্থান বেড়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমেছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আয়কর ২ হাজার ১০০ কোটি ইউরো বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কমানো হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে।
নব্য-ফ্যাসিবাদী শিকড় থাকা দলটির এই প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরেও মেলোনির জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়ে একাধিকবার প্রশংসা হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য একটি উদাহরণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর শুরুতে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের জবাবে মেলোনি বলেছিলেন, ‘ইতালি কারও কাছে অনুনয় করে না।’ তাঁর এই মন্তব্যে অনেক ইতালীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকারকে সমালোচকেরা অবশ্য ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সরকার বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরলেও দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি।
সমালোচকদের তালিকায় রয়েছে দুর্বল উৎপাদনশীলতা, জনসংখ্যাগত সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অদক্ষতা। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিও সরকারের জন্য বড় সমালোচনার কারণ হয়ে উঠেছে।
মেলোনি সরকারের সমর্থনে আয়োজিত উদযাপনের আগে ইতালির CGIL ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মাউরিজিও লান্দিনি বলেন, মজুরি বাড়েনি। বরং পেট্রলের দাম ও চাকরির অনিশ্চয়তা বেড়েছে। মানুষ আগের তুলনায় কম অবসরে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও কমেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বারিতে মেলোনির দলের সমাবেশের পাশাপাশি বিরোধীরাও শহরের অন্য এলাকায় পাল্টা কর্মসূচির আয়োজন করছে। আয়োজকদের অভিযোগ, মেলোনি সরকার ‘যুদ্ধ ও অস্ত্রের অর্থনীতি’ এবং ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ তৈরির অভিযোগও করেছে তারা।
অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার অবস্থান থেকে সরে এসে মেলোনি এখন অতিরিক্ত মধ্যপন্থি হয়ে উঠেছেন। ২০২৭ সালের নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও এমন ধারণা রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চি তাঁদের মধ্যে একজন। তাঁর নেতৃত্বাধীন দল মেলোনির দলের তুলনায় আরও কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত। অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য ভান্নাচ্চি পরিচিত।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, তাঁর দল মেলোনির জোটের দুই শরিক—অভিবাসনবিরোধী লিগ ও ডানপন্থি ফোরজা ইতালিয়াকে পেছনে ফেলেছে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এর মাধ্যমে মেলোনি ধনকুবের ও মিডিয়া ব্যবসায়ী সিলভিও বারলুসকোনির একটি রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। তবে বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি সময়, প্রায় নয় বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড এখনো বারলুসকোনির দখলে রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরে ইতালিতে মোট ৬৮টি সরকার গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি সরকার প্রায় ১৩ মাস করে ক্ষমতায় থেকেছে।
নিজের এই রেকর্ড উদযাপন করতে মেলোনি ও তাঁর কট্টর ডানপন্থি দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই) শুক্রবার দক্ষিণ ইতালির পুগলিয়া অঞ্চলের বন্দরনগরী বারিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এ উপলক্ষে প্রায় ৮০টি কোচে করে সমর্থকদের বারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যায় আয়োজিত সমাবেশে মেলোনির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও আন্তোনিও তাজানি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালের ইতালির নির্বাচন সামনে রেখে এই আয়োজনকে কার্যত প্রচারণার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মেলোনি সরকার দাবি করেছে, চার বছরের শাসনামলে দেশে ১০ লাখ কর্মসংস্থান বেড়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমেছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আয়কর ২ হাজার ১০০ কোটি ইউরো বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কমানো হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে।
নব্য-ফ্যাসিবাদী শিকড় থাকা দলটির এই প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরেও মেলোনির জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়ে একাধিকবার প্রশংসা হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য একটি উদাহরণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর শুরুতে গড়ে ওঠা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের জবাবে মেলোনি বলেছিলেন, ‘ইতালি কারও কাছে অনুনয় করে না।’ তাঁর এই মন্তব্যে অনেক ইতালীয় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকারকে সমালোচকেরা অবশ্য ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সরকার বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরলেও দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি।
সমালোচকদের তালিকায় রয়েছে দুর্বল উৎপাদনশীলতা, জনসংখ্যাগত সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অদক্ষতা। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিও সরকারের জন্য বড় সমালোচনার কারণ হয়ে উঠেছে।
মেলোনি সরকারের সমর্থনে আয়োজিত উদযাপনের আগে ইতালির CGIL ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মাউরিজিও লান্দিনি বলেন, মজুরি বাড়েনি। বরং পেট্রলের দাম ও চাকরির অনিশ্চয়তা বেড়েছে। মানুষ আগের তুলনায় কম অবসরে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও কমেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বারিতে মেলোনির দলের সমাবেশের পাশাপাশি বিরোধীরাও শহরের অন্য এলাকায় পাল্টা কর্মসূচির আয়োজন করছে। আয়োজকদের অভিযোগ, মেলোনি সরকার ‘যুদ্ধ ও অস্ত্রের অর্থনীতি’ এবং ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ তৈরির অভিযোগও করেছে তারা।
অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার অবস্থান থেকে সরে এসে মেলোনি এখন অতিরিক্ত মধ্যপন্থি হয়ে উঠেছেন। ২০২৭ সালের নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও এমন ধারণা রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চি তাঁদের মধ্যে একজন। তাঁর নেতৃত্বাধীন দল মেলোনির দলের তুলনায় আরও কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত। অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য ভান্নাচ্চি পরিচিত।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, তাঁর দল মেলোনির জোটের দুই শরিক—অভিবাসনবিরোধী লিগ ও ডানপন্থি ফোরজা ইতালিয়াকে পেছনে ফেলেছে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে

আপনার মতামত লিখুন