আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এ পদে প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেননি।
মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই পাঁচ দেশের যেকোনো একটি প্রার্থীকে ভেটো দিতে পারে। এ কারণে নতুন মহাসচিব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সম্ভাব্য প্রধান প্রার্থী হিসেবে গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট এবং কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অনানুষ্ঠানিক ভোটে তাদের কারও পক্ষে এখনো সুস্পষ্ট সমর্থন তৈরি হয়নি।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যখন জাতিসংঘ বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় সংস্থাটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে গুতেরেস আগেই সতর্ক করেছেন। এই বকেয়া অর্থের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি বছর জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট ৩১টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এসব সংস্থার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি ইউএসএআইডি বন্ধের সিদ্ধান্তও জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ নিয়েও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ জাতিসংঘের পরিবর্তে বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে এসব সংকটের মধ্যেও জাতিসংঘের ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতিসংঘ কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও সংস্থাটির শান্তিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে ৫০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নতুন মহাসচিব নির্বাচনে আরেকটি বিষয় আলোচনায় রয়েছে—প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশ্যে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রার্থীদের বিস্তারিত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কোনো প্রার্থীকে নিয়ে ঐকমত্য তৈরি না হলে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে সাময়িকভাবে দায়িত্বে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন মহাসচিব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
জাতিসংঘের সামনে তাই শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টিই নয়, বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখার বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচন সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এ পদে প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেননি।
মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই পাঁচ দেশের যেকোনো একটি প্রার্থীকে ভেটো দিতে পারে। এ কারণে নতুন মহাসচিব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সম্ভাব্য প্রধান প্রার্থী হিসেবে গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেট এবং কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অনানুষ্ঠানিক ভোটে তাদের কারও পক্ষে এখনো সুস্পষ্ট সমর্থন তৈরি হয়নি।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যখন জাতিসংঘ বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় সংস্থাটি আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে গুতেরেস আগেই সতর্ক করেছেন। এই বকেয়া অর্থের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি বছর জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট ৩১টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এসব সংস্থার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি ইউএসএআইডি বন্ধের সিদ্ধান্তও জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ নিয়েও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ জাতিসংঘের পরিবর্তে বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে এসব সংকটের মধ্যেও জাতিসংঘের ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতিসংঘ কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও সংস্থাটির শান্তিরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে ৫০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নতুন মহাসচিব নির্বাচনে আরেকটি বিষয় আলোচনায় রয়েছে—প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশ্যে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রার্থীদের বিস্তারিত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে কোনো প্রার্থীকে নিয়ে ঐকমত্য তৈরি না হলে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে সাময়িকভাবে দায়িত্বে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন মহাসচিব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
জাতিসংঘের সামনে তাই শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টিই নয়, বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখার বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচন সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন