শুক্রবার নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রুকন (সদস্য) শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহর আইন ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যেসব ইসলামী দল আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী। মানুষের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সবসময় তাদের মর্যাদা দিতে হবে। সম্মান প্রদর্শন করে কথা বলাই একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। সংগঠনের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের চিন্তাও মনে স্থান দেওয়া যাবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। হারাম থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। মমতাময়ী মাকে সম্মান করতে গিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে অপমান করা যাবে না। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
সন্তানদের প্রতি কোমল ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সন্তানদের নাম বিকৃত করে ডাকা উচিত নয়। স্নেহের সঙ্গে তাদের সঠিক নামে ডাকতে হবে। সন্তান বিপথে গেলেও তাকে অভিশাপ দেওয়া যাবে না; বরং তার হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে হবে। সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত কৌশল করতে গিয়ে অন্যের অধিকার নষ্ট করলে একসময় সেই সন্তানের কাছেই লাঞ্ছিত হতে হবে। আল্লাহর বিধানের পরিপন্থীভাবে মেয়ের চেয়ে ছেলেকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে হবে। তাদের প্রয়োজনকে নিজেদের প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এর মাধ্যমেই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী দিনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। সময়ের উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত জ্ঞানচর্চা, আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের নৈতিক ও সাংগঠনিক মান উন্নত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় শিক্ষাশিবিরটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শাকুর ও মাওলানা আব্দুল মুকিত প্রমুখ। শিক্ষাশিবিরে মহানগরীর রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, নৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও মনোযোগ দিতে হবে।
সূত্র: আমার দেশ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রুকন (সদস্য) শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহর আইন ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যেসব ইসলামী দল আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী। মানুষের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সবসময় তাদের মর্যাদা দিতে হবে। সম্মান প্রদর্শন করে কথা বলাই একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। সংগঠনের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের চিন্তাও মনে স্থান দেওয়া যাবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। হারাম থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। মমতাময়ী মাকে সম্মান করতে গিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে অপমান করা যাবে না। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
সন্তানদের প্রতি কোমল ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সন্তানদের নাম বিকৃত করে ডাকা উচিত নয়। স্নেহের সঙ্গে তাদের সঠিক নামে ডাকতে হবে। সন্তান বিপথে গেলেও তাকে অভিশাপ দেওয়া যাবে না; বরং তার হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে হবে। সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত কৌশল করতে গিয়ে অন্যের অধিকার নষ্ট করলে একসময় সেই সন্তানের কাছেই লাঞ্ছিত হতে হবে। আল্লাহর বিধানের পরিপন্থীভাবে মেয়ের চেয়ে ছেলেকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে হবে। তাদের প্রয়োজনকে নিজেদের প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এর মাধ্যমেই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী দিনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। সময়ের উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত জ্ঞানচর্চা, আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের নৈতিক ও সাংগঠনিক মান উন্নত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় শিক্ষাশিবিরটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শাকুর ও মাওলানা আব্দুল মুকিত প্রমুখ। শিক্ষাশিবিরে মহানগরীর রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, নৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও মনোযোগ দিতে হবে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন