ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি খাস জমি দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য জনসমক্ষে আনা এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক ডেস্টিনির গৌরীপুর প্রতিনিধি এইচ টি তোফাজ্জল হোসেনকে (৩২) অপহরণ, দফায় দফায় নির্যাতন, মুক্তিপণ দাবি ও সর্বস্ব লুটের ঘটনায় মো. সিরাজুল হককে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনাম ৪/৫ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬ ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নং আমলি আদালতে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এর জের ধরে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কলতাপাড়া বড়বাড়ি এলাকায় একটি বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে বের হওয়ার পরপরই ওত পেতে থাকা প্রভাবশালী চক্রটি তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরবর্তীতে মামলার ২ নং আসামি তোফাজ্জল হোসেন মানিক ও ৩ নং আসামি তানভীর আহমেদের বাড়িতে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং মুঠোফোনে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাঁর ওপর চালায় পৈশাচিক নির্যাতন। মামলার ১ নং আসামি মো. সিরাজুল হক, ৫ নং আসামি জামাল উদ্দিন ও ৭ নং আসামি দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশ ও সহযোগিতায় তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ৩ নং আসামি তানভীর আহমেদ খুন করার উদ্দেশ্যে হকিস্টিক দিয়ে সাংবাদিক তোফাজ্জলের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তাঁর মাথায় গুরুতর রক্তাত্ব কাটা যখম হয়। এ সময় ১১ নং আসামি আহাদ আলম জিসানের কিল-ঘুষি ও লাথির পাশাপাশি আসামিরা তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, গলার ১ লাখ টাকা মূল্যের আধা ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং ১৩ নম্বর আসামি সুরুজ আলীর মাধ্যমে হাতের আঙুল থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন—তৌহিদুর রহমান তুহিন, মতি মিয়া, রোমন, আবু মিয়া, রফিকুল, এমদাদুল হক এবং তোফায়েল আহমেদ।
এদিকে, ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত করে অভিযুক্তরা। ৩ নং আসামির নেতৃত্বে আসামিরা পুলিশকে প্রভাবিত করে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিককে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হয়ে আইনি লড়াইয়ে নামেন ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৬৪, ৫০৬ (১১) ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডকে মূল আলামত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলা করার পর থেকেই ৯ নং আসামি আবু মিয়াসহ অন্যান্য আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীদের ওপর এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি চরম আঘাত। অবিলম্বে এই মামলার সকল আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারি খাস জমি দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য জনসমক্ষে আনা এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক ডেস্টিনির গৌরীপুর প্রতিনিধি এইচ টি তোফাজ্জল হোসেনকে (৩২) অপহরণ, দফায় দফায় নির্যাতন, মুক্তিপণ দাবি ও সর্বস্ব লুটের ঘটনায় মো. সিরাজুল হককে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনাম ৪/৫ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬ ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নং আমলি আদালতে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এর জের ধরে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কলতাপাড়া বড়বাড়ি এলাকায় একটি বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে বের হওয়ার পরপরই ওত পেতে থাকা প্রভাবশালী চক্রটি তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরবর্তীতে মামলার ২ নং আসামি তোফাজ্জল হোসেন মানিক ও ৩ নং আসামি তানভীর আহমেদের বাড়িতে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং মুঠোফোনে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাঁর ওপর চালায় পৈশাচিক নির্যাতন। মামলার ১ নং আসামি মো. সিরাজুল হক, ৫ নং আসামি জামাল উদ্দিন ও ৭ নং আসামি দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশ ও সহযোগিতায় তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ৩ নং আসামি তানভীর আহমেদ খুন করার উদ্দেশ্যে হকিস্টিক দিয়ে সাংবাদিক তোফাজ্জলের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তাঁর মাথায় গুরুতর রক্তাত্ব কাটা যখম হয়। এ সময় ১১ নং আসামি আহাদ আলম জিসানের কিল-ঘুষি ও লাথির পাশাপাশি আসামিরা তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, গলার ১ লাখ টাকা মূল্যের আধা ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং ১৩ নম্বর আসামি সুরুজ আলীর মাধ্যমে হাতের আঙুল থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন—তৌহিদুর রহমান তুহিন, মতি মিয়া, রোমন, আবু মিয়া, রফিকুল, এমদাদুল হক এবং তোফায়েল আহমেদ।
এদিকে, ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত করে অভিযুক্তরা। ৩ নং আসামির নেতৃত্বে আসামিরা পুলিশকে প্রভাবিত করে ১৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিককে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হয়ে আইনি লড়াইয়ে নামেন ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৬৪, ৫০৬ (১১) ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডকে মূল আলামত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলা করার পর থেকেই ৯ নং আসামি আবু মিয়াসহ অন্যান্য আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীদের ওপর এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি চরম আঘাত। অবিলম্বে এই মামলার সকল আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন