সুপারিশের জালে অসহায়ত্ব মরিয়ম : অভিযোগের মুখে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, প্রতিনিধি, আবু বক্কার।
সিভিতে তার বয়স মাত্র আঠারো। এসএসি শেষ করেই চাকরির জন্য দরজায় দরজায় ঘুরছেন।
এই বয়সে একটি চাকরি মানে শুধু বেতন নয়। এর মানে মায়ের ওষুধ। ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন। বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে, তা সারানোর টাকা।
এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? প্রথমে পরীক্ষা দিতে হয়। তারপর লাইনে দাঁড়াতে হয়। আর সবশেষে যেতে হয় কোনো ক্ষমতাবান মানুষের কাছে। একটা সুপারিশের জন্য।
এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
একদিন সিভিটা তার কাছেই পৌঁছাল। হয়তো মেয়েটি নিজে নিয়ে গিয়েছিল। হয়তো পরিবারের কেউ। ভরসা নিয়ে গিয়েছিল। যেভাবে গরিব মানুষ সবসময় ক্ষমতাবানদের দ্বারস্থ হয়।
সিভিতে সই পড়ল। সুপারিশও হলো।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না।
আর এই "জানি না"-টাই এখন সবচেয়ে বড় কথা। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবি ভিডিও কেন্দ্র করে যে অভিযোগ উঠেছে তা হলো, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য তার পদের জোর খাটিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ওই অসহায় মেয়েটিকে একা রুমে ডেকেছেন।
এটি অভিযোগ। প্রমাণ নয়। কিন্তু সংসদ এবং দল এই প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পারে না।
ঘটনা সামনে আসার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
আইনজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটি কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে 'মহান সংসদ' এর মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সংসদ যদি চুপ করে থাকে, তাহলে মানুষ মনে করবে এই সংসদ গরিবকে শোষণ করার জন্যই।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়। প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিটি দল দুর্নীতিমুক্ত দেশের কথা বলে। জিরো টলারেন্সের কথা বলে। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, কিন্তু সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না।
যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি?
আজকের এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
সুপারিশের জালে অসহায়ত্ব মরিয়ম : অভিযোগের মুখে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, প্রতিনিধি, আবু বক্কার।
সিভিতে তার বয়স মাত্র আঠারো। এসএসি শেষ করেই চাকরির জন্য দরজায় দরজায় ঘুরছেন।
এই বয়সে একটি চাকরি মানে শুধু বেতন নয়। এর মানে মায়ের ওষুধ। ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন। বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে, তা সারানোর টাকা।
এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? প্রথমে পরীক্ষা দিতে হয়। তারপর লাইনে দাঁড়াতে হয়। আর সবশেষে যেতে হয় কোনো ক্ষমতাবান মানুষের কাছে। একটা সুপারিশের জন্য।
এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
একদিন সিভিটা তার কাছেই পৌঁছাল। হয়তো মেয়েটি নিজে নিয়ে গিয়েছিল। হয়তো পরিবারের কেউ। ভরসা নিয়ে গিয়েছিল। যেভাবে গরিব মানুষ সবসময় ক্ষমতাবানদের দ্বারস্থ হয়।
সিভিতে সই পড়ল। সুপারিশও হলো।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না।
আর এই "জানি না"-টাই এখন সবচেয়ে বড় কথা। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবি ভিডিও কেন্দ্র করে যে অভিযোগ উঠেছে তা হলো, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য তার পদের জোর খাটিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ওই অসহায় মেয়েটিকে একা রুমে ডেকেছেন।
এটি অভিযোগ। প্রমাণ নয়। কিন্তু সংসদ এবং দল এই প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পারে না।
ঘটনা সামনে আসার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
আইনজ্ঞ ও সচেতন মহলের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটি কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে 'মহান সংসদ' এর মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সংসদ যদি চুপ করে থাকে, তাহলে মানুষ মনে করবে এই সংসদ গরিবকে শোষণ করার জন্যই।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়। প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিটি দল দুর্নীতিমুক্ত দেশের কথা বলে। জিরো টলারেন্সের কথা বলে। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, কিন্তু সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না।
যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি?
আজকের এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন