চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন (সিইআইজেড)-এর অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় এক দশক পর সোমবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়নের গতি বাড়বে, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, প্রস্তাবিত চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠিত হলে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং নদীর দক্ষিণ তীরে শিল্পায়ন ও নগরায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তারা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রায় এক দশক ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ঝুলে ছিল। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের ঋণ সহায়তা থাকবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে থাকবে আধুনিক সড়ক, বহুমুখী জেটি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ, সিইটিপি, পানি সংরক্ষণাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধাসহ বিশ্বমানের শিল্প অবকাঠামো।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৪ দশমিক ২৪ এমএমসিএফডি সক্ষমতার গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, ৬০ টন দৈনিক সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা দেয়াল এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।
বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আহরণ সম্ভব হবে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, এ শিল্প জোনে রাসায়নিক, অটোমোবাইল, গার্মেন্টস, ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে।
বেজার তথ্য অনুযায়ী, এটি হবে দেশের প্রথম বিশেষায়িত জি-টু-জি অর্থনৈতিক অঞ্চল। শিল্পাঞ্চলটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
ছবি: দৈনিক ইনকিলাব

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন (সিইআইজেড)-এর অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রায় এক দশক পর সোমবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়নের গতি বাড়বে, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, প্রস্তাবিত চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠিত হলে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং নদীর দক্ষিণ তীরে শিল্পায়ন ও নগরায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তারা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রায় এক দশক ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ঝুলে ছিল। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের ঋণ সহায়তা থাকবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে থাকবে আধুনিক সড়ক, বহুমুখী জেটি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ, সিইটিপি, পানি সংরক্ষণাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধাসহ বিশ্বমানের শিল্প অবকাঠামো।
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৪ দশমিক ২৪ এমএমসিএফডি সক্ষমতার গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, ৬০ টন দৈনিক সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানা দেয়াল এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।
বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আহরণ সম্ভব হবে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, এ শিল্প জোনে রাসায়নিক, অটোমোবাইল, গার্মেন্টস, ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে।
বেজার তথ্য অনুযায়ী, এটি হবে দেশের প্রথম বিশেষায়িত জি-টু-জি অর্থনৈতিক অঞ্চল। শিল্পাঞ্চলটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
ছবি: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন