দ্য হিন্দুর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়া দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সংরক্ষিত দ্বিতীয় একটি জেনারেল ডায়রি (জিডি) এন্ট্রিতে উল্লেখ রয়েছে যে রাজধানীর ওই বিক্ষোভে ছররা গুলি (পেলেট গান) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন ডিসিপি পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তা।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনেই দিল্লি পুলিশ পরিচালিত হয়। নিরস্ত্র ও অহিংস আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আগের দিন (২৮ জুলাই) পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন না। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন এবং সদ্য দায়িত্ব নেওয়া গোয়েন্দা প্রধান (আইবি) মহেশ দীক্ষিতের সঙ্গে সংসদীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে নিউজলন্ড্রির প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার লিখিত আদেশে নিউ দিল্লির ডিসিপি শচীন শর্মার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
‘র্যাফ/সিআরপিএফ কন্টিনজেন্ট অফিসার প্রদত্ত কার্ড’ শিরোনামের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "আমি, শচীন শর্মা, নয়া দিল্লি জেলার যন্তর মন্তরে উপস্থিত সর্বোচ্চ পদমর্যাদার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩’-এর ১৪৯ ধারা অনুযায়ী (অপরাধ কার্যবিধির সাবেক ১৩০ ধারা), ১০০০ নম্বর ব্যাটালিয়নের ডি/১০৩ ইউনিটের সহকারী কমান্ড্যান্ট দিলওয়ারকে নির্দেশ দিচ্ছি—২০ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে নয়া দিল্লি জেলায় সমবেত হওয়া বেআইনি সমাবেশকে টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এবং/অথবা অধীনস্থ সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় গ্রেফতার ও আটক করে ছত্রভঙ্গ করতে হবে।"
এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়্যার ১২-বোরের পাম্প-অ্যাকশন গান থেকে ছররা গুলি ছোড়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে এবং ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছিল। তবে তখন নিরাপত্তা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি। যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এমন পদক্ষেপের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।
এর আগে প্রকাশিত আরেকটি পুলিশ ডায়রিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকারীদের দমাতে র্যাফকে সরাসরি রাজপথে মোতায়েন করা হয়। সেখানে বলা হয়, "জোন-১-এর ডিসিপির নির্দেশে যন্তর মন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত র্যাফ ডেপুটি কমান্ড্যান্ট অ্যান্টি-রায়ট গান দিয়ে ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল শেল, ৫টি টিয়ার স্মোক গ্রেনেড এবং প্লাস্টিক পেলেট ভর্তি ব্যালিস্টিক কার্তুজ ব্যবহার করে দুই রাউন্ড ফায়ার করেন।" উল্লেখ্য, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের দাঙ্গাবিরোধী বিশেষ ইউনিটটি তখন দিল্লি পুলিশের অধীনে দায়িত্ব পালন করছিল।
আইনগতভাবে, ‘দিল্লি পুলিশ আইন ১৯৭৮’-এর ৭০(১)(বি) ধারা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (এসিপি) এবং তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া যায়। সেই প্রশাসনিক ক্ষমতাবলেই ডিসিপি শচীন শর্মা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ জারি করতে সক্ষম হন।
নিউজলন্ড্রির পক্ষ থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশের কারণ জানতে শচীন শর্মার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিআরপিএফের মহাপরিচালক জি পি সিং বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় সব তথ্য সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হবে। তবে র্যাফ সূত্রের দাবি, ২০ জুলাইয়ের পুরো বলপ্রয়োগ ও ছররা গুলির ব্যবহার আইন এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসারেই করা হয়েছে, যা দিল্লি পুলিশ লিখিতভাবে অনুমোদন করেছিল।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
দ্য হিন্দুর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়া দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সংরক্ষিত দ্বিতীয় একটি জেনারেল ডায়রি (জিডি) এন্ট্রিতে উল্লেখ রয়েছে যে রাজধানীর ওই বিক্ষোভে ছররা গুলি (পেলেট গান) ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন ডিসিপি পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তা।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনেই দিল্লি পুলিশ পরিচালিত হয়। নিরস্ত্র ও অহিংস আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আগের দিন (২৮ জুলাই) পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন না। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন এবং সদ্য দায়িত্ব নেওয়া গোয়েন্দা প্রধান (আইবি) মহেশ দীক্ষিতের সঙ্গে সংসদীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে নিউজলন্ড্রির প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার লিখিত আদেশে নিউ দিল্লির ডিসিপি শচীন শর্মার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
‘র্যাফ/সিআরপিএফ কন্টিনজেন্ট অফিসার প্রদত্ত কার্ড’ শিরোনামের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "আমি, শচীন শর্মা, নয়া দিল্লি জেলার যন্তর মন্তরে উপস্থিত সর্বোচ্চ পদমর্যাদার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩’-এর ১৪৯ ধারা অনুযায়ী (অপরাধ কার্যবিধির সাবেক ১৩০ ধারা), ১০০০ নম্বর ব্যাটালিয়নের ডি/১০৩ ইউনিটের সহকারী কমান্ড্যান্ট দিলওয়ারকে নির্দেশ দিচ্ছি—২০ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে নয়া দিল্লি জেলায় সমবেত হওয়া বেআইনি সমাবেশকে টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এবং/অথবা অধীনস্থ সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় গ্রেফতার ও আটক করে ছত্রভঙ্গ করতে হবে।"
এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়্যার ১২-বোরের পাম্প-অ্যাকশন গান থেকে ছররা গুলি ছোড়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে এবং ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছিল। তবে তখন নিরাপত্তা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি। যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এমন পদক্ষেপের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।
এর আগে প্রকাশিত আরেকটি পুলিশ ডায়রিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকারীদের দমাতে র্যাফকে সরাসরি রাজপথে মোতায়েন করা হয়। সেখানে বলা হয়, "জোন-১-এর ডিসিপির নির্দেশে যন্তর মন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত র্যাফ ডেপুটি কমান্ড্যান্ট অ্যান্টি-রায়ট গান দিয়ে ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল শেল, ৫টি টিয়ার স্মোক গ্রেনেড এবং প্লাস্টিক পেলেট ভর্তি ব্যালিস্টিক কার্তুজ ব্যবহার করে দুই রাউন্ড ফায়ার করেন।" উল্লেখ্য, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের দাঙ্গাবিরোধী বিশেষ ইউনিটটি তখন দিল্লি পুলিশের অধীনে দায়িত্ব পালন করছিল।
আইনগতভাবে, ‘দিল্লি পুলিশ আইন ১৯৭৮’-এর ৭০(১)(বি) ধারা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (এসিপি) এবং তার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া যায়। সেই প্রশাসনিক ক্ষমতাবলেই ডিসিপি শচীন শর্মা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ জারি করতে সক্ষম হন।
নিউজলন্ড্রির পক্ষ থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশের কারণ জানতে শচীন শর্মার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিআরপিএফের মহাপরিচালক জি পি সিং বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় সব তথ্য সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হবে। তবে র্যাফ সূত্রের দাবি, ২০ জুলাইয়ের পুরো বলপ্রয়োগ ও ছররা গুলির ব্যবহার আইন এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসারেই করা হয়েছে, যা দিল্লি পুলিশ লিখিতভাবে অনুমোদন করেছিল।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।

আপনার মতামত লিখুন