ইসরায়েলি সংবাদপত্র দ্য জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই মূল্যায়নের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে সংঘটিত যুদ্ধের কয়েক মাসের মধ্যেই ইরান বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতাও দ্রুত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের দ্রুত সামরিক পুনরুদ্ধারের ঘটনা অবশ্য ইসরায়েলের জন্য নতুন নয়। দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হামলার পরও ইসরায়েল দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সেই উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শিল্পের প্রায় ১০০টি স্থাপনায় হামলার পরও একই ধরনের হিসাব করা হয়েছিল। তবে এবারও ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখাচ্ছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করছেন। এ কারণে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির মধ্যেও ইরান নির্দিষ্ট সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে দেশটির সামগ্রিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নির্দিষ্ট অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থার সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনের একটি হিসাব অনুযায়ী, ইরান প্রতি মাসে ১০০ থেকে ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের জুনের পর্যায়ের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পুনর্গঠন করতে পারে। একইভাবে সক্ষমতা বাড়তে থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে ইরান বড় ধরনের সামরিক হুমকিতে পরিণত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা ও সময়সীমা ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; ইরানের সামরিক সক্ষমতার স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরিসংখ্যান নয়। ইরানের প্রকৃত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্যও সীমিত। ফলে এসব হিসাবকে সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইরান কত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে, তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক হিসাবের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে। তবে যুদ্ধের পর থেকে ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মূল্যায়ন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পুনর্গঠনের নির্দিষ্ট গতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে আইডিএফ।
ফলে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেহরান কত দ্রুত তা পুনর্গঠন করতে পারবে—এই প্রশ্নটি এখন ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: তাস

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
ইসরায়েলি সংবাদপত্র দ্য জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই মূল্যায়নের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তারাও যুক্ত রয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে সংঘটিত যুদ্ধের কয়েক মাসের মধ্যেই ইরান বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতাও দ্রুত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের দ্রুত সামরিক পুনরুদ্ধারের ঘটনা অবশ্য ইসরায়েলের জন্য নতুন নয়। দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হামলার পরও ইসরায়েল দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সেই উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শিল্পের প্রায় ১০০টি স্থাপনায় হামলার পরও একই ধরনের হিসাব করা হয়েছিল। তবে এবারও ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখাচ্ছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করছেন। এ কারণে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির মধ্যেও ইরান নির্দিষ্ট সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে দেশটির সামগ্রিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নির্দিষ্ট অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থার সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনের একটি হিসাব অনুযায়ী, ইরান প্রতি মাসে ১০০ থেকে ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের জুনের পর্যায়ের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পুনর্গঠন করতে পারে। একইভাবে সক্ষমতা বাড়তে থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে ইরান বড় ধরনের সামরিক হুমকিতে পরিণত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা ও সময়সীমা ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; ইরানের সামরিক সক্ষমতার স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরিসংখ্যান নয়। ইরানের প্রকৃত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্যও সীমিত। ফলে এসব হিসাবকে সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইরান কত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে, তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক হিসাবের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে। তবে যুদ্ধের পর থেকে ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মূল্যায়ন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পুনর্গঠনের নির্দিষ্ট গতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে আইডিএফ।
ফলে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেহরান কত দ্রুত তা পুনর্গঠন করতে পারবে—এই প্রশ্নটি এখন ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: তাস

আপনার মতামত লিখুন