প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সফরে গিয়ে তারেক রহমান যেন কোনো ধরনের কূটনৈতিক অর্জন ছাড়া ফিরে না যান, সে বিষয়ে ‘অভাবনীয়’ উপহারের বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইঙ্গিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের রেল ও সড়ক যোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং সামগ্রিক সংযোগ বাড়বে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের এ ঘোষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, সেগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভারতের কাছেও বিভিন্ন দেশের করা একাধিক প্রত্যর্পণের অনুরোধ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি আলাদা রেখে দ্রুত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারত সফরে আসেন। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফর হলে তা সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে বলেও জানানো হয়েছে। কারণ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা বছর বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন এবং নিকট ভবিষ্যতে সফরের সুযোগ নাও তৈরি হতে পারে।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানের মধ্যে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর একান্ত বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সাংবাদিকরা। বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দ্রুত দিল্লি ফিরে যান। সেখানে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের অবস্থান জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকায় ফিরে দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে আরও জোরালোভাবে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী সপ্তাহে তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন—এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন। সম্ভাব্য এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লিতে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সংযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সম্ভাব্য সফরটি দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সফরের সময়সূচি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস (BRICS) আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
সূত্র: মানবজমিন

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সফরে গিয়ে তারেক রহমান যেন কোনো ধরনের কূটনৈতিক অর্জন ছাড়া ফিরে না যান, সে বিষয়ে ‘অভাবনীয়’ উপহারের বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ইঙ্গিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের রেল ও সড়ক যোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং সামগ্রিক সংযোগ বাড়বে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের এ ঘোষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, সেগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভারতের কাছেও বিভিন্ন দেশের করা একাধিক প্রত্যর্পণের অনুরোধ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি আলাদা রেখে দ্রুত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারত সফরে আসেন। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফর হলে তা সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে বলেও জানানো হয়েছে। কারণ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা বছর বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন এবং নিকট ভবিষ্যতে সফরের সুযোগ নাও তৈরি হতে পারে।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানের মধ্যে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর একান্ত বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সাংবাদিকরা। বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দ্রুত দিল্লি ফিরে যান। সেখানে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের অবস্থান জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
ঢাকায় ফিরে দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে আরও জোরালোভাবে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী সপ্তাহে তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন—এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন। সম্ভাব্য এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লিতে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সংযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সম্ভাব্য সফরটি দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সফরের সময়সূচি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস (BRICS) আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
সূত্র: মানবজমিন

আপনার মতামত লিখুন