আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবৈধ যুদ্ধ শুরুর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তার মানবিক পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এসব যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাও বাড়িয়ে তুলছে।
জুনসের মতে, এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ওপরও পড়ছে। তারা এখন উপলব্ধি করছে, নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় ওয়াশিংটন সবসময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে। এ কারণে তারা বিকল্প জোট ও অংশীদারত্বের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে—অতীত কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতার পর এই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থে ওয়াশিংটনের ওপর কতটা নির্ভর করা নিরাপদ।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়েও দেশটির অভ্যন্তরে বিরোধিতা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন এই অধ্যাপক।
জুনসের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শিক্ষা ও গণপরিবহনের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় খাত থেকে বিপুল অর্থ সামরিক ব্যয়ের দিকে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। অথচ প্রতি বছর দেশটির ঐচ্ছিক সরকারি বাজেটের অর্ধেকের বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, যা তাঁর দৃষ্টিতে অযৌক্তিক।
স্টিফেন জুনসের মতে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে মাত্রায় বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করেছে, সেই আধিপত্যের অবসানের মধ্য দিয়েই এখন মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনপর্ব দৃশ্যমান হচ্ছে।
সূত্র: আমার দেশ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবৈধ যুদ্ধ শুরুর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তার মানবিক পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এসব যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাও বাড়িয়ে তুলছে।
জুনসের মতে, এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ওপরও পড়ছে। তারা এখন উপলব্ধি করছে, নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় ওয়াশিংটন সবসময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে। এ কারণে তারা বিকল্প জোট ও অংশীদারত্বের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে—অতীত কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতার পর এই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থে ওয়াশিংটনের ওপর কতটা নির্ভর করা নিরাপদ।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়েও দেশটির অভ্যন্তরে বিরোধিতা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন এই অধ্যাপক।
জুনসের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শিক্ষা ও গণপরিবহনের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় খাত থেকে বিপুল অর্থ সামরিক ব্যয়ের দিকে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। অথচ প্রতি বছর দেশটির ঐচ্ছিক সরকারি বাজেটের অর্ধেকের বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, যা তাঁর দৃষ্টিতে অযৌক্তিক।
স্টিফেন জুনসের মতে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে মাত্রায় বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করেছে, সেই আধিপত্যের অবসানের মধ্য দিয়েই এখন মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনপর্ব দৃশ্যমান হচ্ছে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন