এই জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কমিশনের প্রতিবেদন ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো আরও গভীরভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেন। বেতন কাঠামোয় কোনো বৈষম্য বা অসংগতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে এর বাস্তবায়ন আরও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায় কি না, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগির বৈঠকে বসবে। এর আগে ১২ আগস্ট কমিটির একটি বৈঠক আহ্বান করা হলেও সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে সেটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
জানা গেছে, কমিটির প্রথম বৈঠকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন এবং কীভাবে সেই অর্থ দেওয়া সম্ভব—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। ওই প্রস্তাবে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়লেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবম পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন খাতের দাবির মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে প্রক্রিয়াটি বারবার বাধার মুখে পড়ছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
এই জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কমিশনের প্রতিবেদন ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো আরও গভীরভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেন। বেতন কাঠামোয় কোনো বৈষম্য বা অসংগতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে এর বাস্তবায়ন আরও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায় কি না, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগির বৈঠকে বসবে। এর আগে ১২ আগস্ট কমিটির একটি বৈঠক আহ্বান করা হলেও সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে সেটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
জানা গেছে, কমিটির প্রথম বৈঠকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন এবং কীভাবে সেই অর্থ দেওয়া সম্ভব—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। ওই প্রস্তাবে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়লেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবম পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন খাতের দাবির মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে প্রক্রিয়াটি বারবার বাধার মুখে পড়ছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন