ঢাকা    শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক, থাকছে ৩০ হাজারের বেশি গাছ

পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক, থাকছে ৩০ হাজারের বেশি গাছ
পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক, থাকছে ৩০ হাজারের বেশি গাছ

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম বড় নগর উদ্যান ‘এলিনিকন পার্ক’। দক্ষিণ এথেন্সের এলিনিকো এলাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠছে পার্কটি। এখানে ৩০ হাজারের বেশি গাছ এবং প্রায় ৩০ লাখ ঝোপঝাড় লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পার্কের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গাজুড়ে থাকবে সবুজায়ন।

নির্মাণাধীন এই পার্কটি ২০২৭ সালের শুরুতে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এর বিভিন্ন অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। শুধু বিনোদনের জন্য নয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরাঞ্চলের অতিরিক্ত তাপের মতো পরিবেশগত সমস্যার মোকাবিলায়ও পার্কটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

এলিনিকন পার্কে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭ হাজার ঘনমিটার পরিশোধিত পানি উৎপাদন করতে সক্ষম একটি বর্জ্যপানি শোধনাগার এবং ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। স্মার্ট সেচ প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা হবে। এতে পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।

বৃষ্টির পানিও পার্কের মধ্যেই ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সবুজ ও নীল অবকাঠামো ব্যবহার করে বৃষ্টির পানি পুরো এলাকাতেই ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ট্রাকোনেস জলধারার মতো প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

নগরের তাপমাত্রা কমানোর বিষয়টিও পার্কটির নকশায় গুরুত্ব পেয়েছে। তাপমাত্রা, বাতাসের প্রবাহ ও ছায়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ‘কুল রুট’ বা শীতল পথ তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থানে আশপাশের কংক্রিট ও অ্যাসফল্টে ঢাকা এলাকার তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকতে পারে।

বিশ্রামের স্থানগুলোতে ৬০ শতাংশের বেশি ছায়া নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাছপালার বাষ্পীভবন, পানির প্রবাহ, কুয়াশা তৈরির ব্যবস্থা এবং কম পানি ব্যবহারকারী জলাধার পার্কের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে ভূমিকা রাখবে।

পার্কটিতে ৫২০টির বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রায় ৭৫ শতাংশ হবে স্থানীয় গ্রিক প্রজাতি অথবা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানানসই উদ্ভিদ। মাটি, বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যের বিকিরণ ও ছায়ার মাত্রা পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন সেন্সর স্থাপন করা হবে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে সেচ ও সবুজ এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

নির্মাণকাজেও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে গ্রিসের স্থানীয় কাবালা মার্বেল, সাদা ডিওনিসোস-পেনটেলি মার্বেল, কারিস্টোস স্লেট এবং মান্দ্রাস বেলেপাথর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরোনো বিমানবন্দর ভবনের কংক্রিটসহ অন্যান্য উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হবে।

প্রায় ২০ লাখ বর্গমিটার বা ২০০ হেক্টর আয়তনের এলিনিকন পার্ককে ইউরোপের সবচেয়ে বড় উপকূলীয় নগর উদ্যান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়তনের দিক থেকে এটি লন্ডনের হাইড পার্কের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বড় এবং বার্লিনের টিয়ারগার্টেনের কাছাকাছি। তবে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের তুলনায় এটি ছোট। সেন্ট্রাল পার্কের আয়তন প্রায় ৩৪১ হেক্টর।

এলিনিকন প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পার্কটি প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতীরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ কারণে এটি একটি আধুনিক নগর পরিকল্পনা প্রকল্প হিসেবেও গড়ে উঠছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক, থাকছে ৩০ হাজারের বেশি গাছ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম বড় নগর উদ্যান ‘এলিনিকন পার্ক’। দক্ষিণ এথেন্সের এলিনিকো এলাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠছে পার্কটি। এখানে ৩০ হাজারের বেশি গাছ এবং প্রায় ৩০ লাখ ঝোপঝাড় লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পার্কের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গাজুড়ে থাকবে সবুজায়ন।

নির্মাণাধীন এই পার্কটি ২০২৭ সালের শুরুতে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এর বিভিন্ন অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। শুধু বিনোদনের জন্য নয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরাঞ্চলের অতিরিক্ত তাপের মতো পরিবেশগত সমস্যার মোকাবিলায়ও পার্কটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

এলিনিকন পার্কে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭ হাজার ঘনমিটার পরিশোধিত পানি উৎপাদন করতে সক্ষম একটি বর্জ্যপানি শোধনাগার এবং ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। স্মার্ট সেচ প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা হবে। এতে পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।

বৃষ্টির পানিও পার্কের মধ্যেই ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সবুজ ও নীল অবকাঠামো ব্যবহার করে বৃষ্টির পানি পুরো এলাকাতেই ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ট্রাকোনেস জলধারার মতো প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

নগরের তাপমাত্রা কমানোর বিষয়টিও পার্কটির নকশায় গুরুত্ব পেয়েছে। তাপমাত্রা, বাতাসের প্রবাহ ও ছায়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ‘কুল রুট’ বা শীতল পথ তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থানে আশপাশের কংক্রিট ও অ্যাসফল্টে ঢাকা এলাকার তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকতে পারে।

বিশ্রামের স্থানগুলোতে ৬০ শতাংশের বেশি ছায়া নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাছপালার বাষ্পীভবন, পানির প্রবাহ, কুয়াশা তৈরির ব্যবস্থা এবং কম পানি ব্যবহারকারী জলাধার পার্কের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে ভূমিকা রাখবে।

পার্কটিতে ৫২০টির বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রায় ৭৫ শতাংশ হবে স্থানীয় গ্রিক প্রজাতি অথবা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানানসই উদ্ভিদ। মাটি, বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যের বিকিরণ ও ছায়ার মাত্রা পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন সেন্সর স্থাপন করা হবে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে সেচ ও সবুজ এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

নির্মাণকাজেও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে গ্রিসের স্থানীয় কাবালা মার্বেল, সাদা ডিওনিসোস-পেনটেলি মার্বেল, কারিস্টোস স্লেট এবং মান্দ্রাস বেলেপাথর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরোনো বিমানবন্দর ভবনের কংক্রিটসহ অন্যান্য উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হবে।

প্রায় ২০ লাখ বর্গমিটার বা ২০০ হেক্টর আয়তনের এলিনিকন পার্ককে ইউরোপের সবচেয়ে বড় উপকূলীয় নগর উদ্যান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়তনের দিক থেকে এটি লন্ডনের হাইড পার্কের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বড় এবং বার্লিনের টিয়ারগার্টেনের কাছাকাছি। তবে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের তুলনায় এটি ছোট। সেন্ট্রাল পার্কের আয়তন প্রায় ৩৪১ হেক্টর।

এলিনিকন প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পার্কটি প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতীরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ কারণে এটি একটি আধুনিক নগর পরিকল্পনা প্রকল্প হিসেবেও গড়ে উঠছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
পুরোনো বিমানবন্দরে ইউরোপের মেগা পার্ক, থাকছে ৩০ হাজারের বেশি গাছ
0:00 0:00
1.0x