সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক প্রশংসা পায়।
ঘটনার দিন সকালে কুইজ পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে এক ছাত্রী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। তিনি জানান, পরীক্ষার সময় সন্তানকে দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। তার স্বামীও অফিস থেকে ছুটি পাননি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের বদলে পরে পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তার পরিকল্পনা ছিল, সহপাঠীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের কাছে সন্তানকে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া।
শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, একজন নারীকে সফল হতে গিয়ে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক নানা ধরনের বাধার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি চাইলে ওই শিক্ষার্থীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারতেন। তবে তার মনে হয়, এতে শিক্ষার্থীর জন্য একটি ভুল বার্তা তৈরি হতে পারে। শুধু সন্তানের কারণে যেন তিনি সহপাঠীদের তুলনায় পিছিয়ে না পড়েন বা আলাদা হয়ে না যান, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই শিশুটিকে দেখাশোনার সিদ্ধান্ত নেন।
শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বলেন, শিশুটি যদি তার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাহলে পরীক্ষা চলাকালে তিনি নিজেই তাকে সামলে রাখবেন। পরীক্ষার হলে শিক্ষক শিশুকে কোলে নিয়ে থাকবেন—এ নিয়ে শিক্ষার্থী প্রথমে কিছুটা সংকোচ বোধ করেন। তবে শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, একজন মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
পরে পুরো পরীক্ষার সময় শিশুটি শিক্ষকের কোলে ছিল। আর ওই ছাত্রী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান। জবাবে শিক্ষক তাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেন, ‘মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।’
সূত্র: বাংলাভিশন

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক প্রশংসা পায়।
ঘটনার দিন সকালে কুইজ পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে এক ছাত্রী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। তিনি জানান, পরীক্ষার সময় সন্তানকে দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। তার স্বামীও অফিস থেকে ছুটি পাননি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের বদলে পরে পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তার পরিকল্পনা ছিল, সহপাঠীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের কাছে সন্তানকে রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া।
শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, একজন নারীকে সফল হতে গিয়ে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক নানা ধরনের বাধার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি চাইলে ওই শিক্ষার্থীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারতেন। তবে তার মনে হয়, এতে শিক্ষার্থীর জন্য একটি ভুল বার্তা তৈরি হতে পারে। শুধু সন্তানের কারণে যেন তিনি সহপাঠীদের তুলনায় পিছিয়ে না পড়েন বা আলাদা হয়ে না যান, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই শিশুটিকে দেখাশোনার সিদ্ধান্ত নেন।
শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বলেন, শিশুটি যদি তার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাহলে পরীক্ষা চলাকালে তিনি নিজেই তাকে সামলে রাখবেন। পরীক্ষার হলে শিক্ষক শিশুকে কোলে নিয়ে থাকবেন—এ নিয়ে শিক্ষার্থী প্রথমে কিছুটা সংকোচ বোধ করেন। তবে শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, একজন মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
পরে পুরো পরীক্ষার সময় শিশুটি শিক্ষকের কোলে ছিল। আর ওই ছাত্রী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান। জবাবে শিক্ষক তাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেন, ‘মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।’
সূত্র: বাংলাভিশন

আপনার মতামত লিখুন