ঢাকা    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ নয়: জামায়াত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ নয়: জামায়াত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ নয়: জামায়াত

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে। এই রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাবে না। বর্তমানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নেই। জনগণের ঐতিহাসিক রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেওয়া হবে না। সংসদ এ বিষয়ে ব্যর্থ হলে জামায়াত জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাসের সংসদীয় কার্যক্রমে এই প্রথম দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় বসে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। সভায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে ১১ দলীয় ঐক্যের হয়ে জামায়াতের ভূমিকা, দেশের বর্তমান জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে দলটির অবস্থান গুরুত্ব পায়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে সভার বিস্তারিত তুলে ধরে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করতে চায়। প্রথাগত সহিংস ও অস্থিতিশীল রাজনীতির পরিবর্তে দলটি ‘ইনসাফভিত্তিক’ সংসদীয় চর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতের ‘গঠনমূলক রাজনীতি’ সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দল হওয়া মানে শুধু বিরোধিতা করা নয়। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের নীতি হলো, সরকারের জনকল্যাণমূলক ও ভালো কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক প্রতিবাদ জানানো। অতীতের নেতিবাচক ও ব্যর্থ বিরোধী রাজনীতির ধারা থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের অগ্রগতিতে জামায়াত কাজ করতে চায়।

সম্পাদকদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। জামায়াতের আমিরের আমন্ত্রণে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো বিরোধী দলকে ভালো কাজে সমর্থন এবং মন্দ কাজের প্রতিবাদ—এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে দেখাকে সম্পাদকরা রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি প্রয়োজন হলেও সেটি যেন আগের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না যায়—এমন পরামর্শ দিয়েছেন সম্পাদকরা। দেশ ও জনগণের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় অটল থাকার জন্য তারা জামায়াতকে আহ্বান জানিয়েছেন। ছয় মাস পর সম্পাদকদের সঙ্গে এমন আনুষ্ঠানিক ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াকেও তারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকদের ইতিবাচক মূল্যায়ন জামায়াতে ইসলামীকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে।

তিনি বলেন, অতীতে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এবং জনগণের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হওয়া একটি গভীর জাতীয় সংকট ছিল। বর্তমানে সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ ও বণ্টনে বিরোধী দলীয় সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংসদে কথা বলার সুযোগ সীমিত করা এবং আইন প্রণয়ন ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ট্রেজারি বেঞ্চের আচরণ ‘ইনসাফপূর্ণ’ নয় বলে সম্পাদকদের অবহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ও সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে যে রায় দিয়েছেন, সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আইনমন্ত্রী গণভোটের চারটি বিষয়ের মধ্যে সাড়ে তিনটিতে একমত হলেও বাকি অর্ধেক ইস্যুতে অমত পোষণ করায় সংকট তৈরি হয়েছে। জামায়াত স্পষ্ট করেছে, জনগণের এই ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেবে না। এসব সংকটের সমাধান এবং জনগণের সামনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সম্পাদকদের লেখনী ও কলমের মাধ্যমে সহযোগিতা চেয়েছে দলটি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সম্পাদকদের একটি অংশ উপস্থিত না থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো দূরত্ব নেই। যারা আসতে পারেননি, তারা টেলিফোনে কারণ জানিয়েছেন। তার মতে, এই মতবিনিময় সভাই গণমাধ্যমের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রমাণ।

সরকারের পক্ষ থেকে লং মার্চ, সভা-সমাবেশসহ জামায়াতের আন্দোলনের কোনো ভিত্তি নেই—এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এমন কথা বলেন, তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সক্ষমতা নেই। তারা শুধু সরকারকে খুশি করতে ‘চাটুকারিতা’ করছেন। বর্তমানে ‘গণভোটের রায়’ দেশের প্রধান ইস্যু বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, জনমত গঠন এবং রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৫ তারিখ সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে বড় ধরনের লং মার্চ ও গাড়িবহর যাত্রা করা হবে।

কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির পথে সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে জামায়াত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতারা।

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় আমির ছাড়াও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রূপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানবকণ্ঠের শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ নয়: জামায়াত

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে। এই রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাবে না। বর্তমানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নেই। জনগণের ঐতিহাসিক রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেওয়া হবে না। সংসদ এ বিষয়ে ব্যর্থ হলে জামায়াত জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাসের সংসদীয় কার্যক্রমে এই প্রথম দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় বসে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। সভায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে ১১ দলীয় ঐক্যের হয়ে জামায়াতের ভূমিকা, দেশের বর্তমান জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে দলটির অবস্থান গুরুত্ব পায়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে সভার বিস্তারিত তুলে ধরে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করতে চায়। প্রথাগত সহিংস ও অস্থিতিশীল রাজনীতির পরিবর্তে দলটি ‘ইনসাফভিত্তিক’ সংসদীয় চর্চায় গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতের ‘গঠনমূলক রাজনীতি’ সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দল হওয়া মানে শুধু বিরোধিতা করা নয়। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের নীতি হলো, সরকারের জনকল্যাণমূলক ও ভালো কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক প্রতিবাদ জানানো। অতীতের নেতিবাচক ও ব্যর্থ বিরোধী রাজনীতির ধারা থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের অগ্রগতিতে জামায়াত কাজ করতে চায়।

সম্পাদকদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। জামায়াতের আমিরের আমন্ত্রণে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো বিরোধী দলকে ভালো কাজে সমর্থন এবং মন্দ কাজের প্রতিবাদ—এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে দেখাকে সম্পাদকরা রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি প্রয়োজন হলেও সেটি যেন আগের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না যায়—এমন পরামর্শ দিয়েছেন সম্পাদকরা। দেশ ও জনগণের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় অটল থাকার জন্য তারা জামায়াতকে আহ্বান জানিয়েছেন। ছয় মাস পর সম্পাদকদের সঙ্গে এমন আনুষ্ঠানিক ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াকেও তারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকদের ইতিবাচক মূল্যায়ন জামায়াতে ইসলামীকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে।

তিনি বলেন, অতীতে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এবং জনগণের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হওয়া একটি গভীর জাতীয় সংকট ছিল। বর্তমানে সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ ও বণ্টনে বিরোধী দলীয় সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংসদে কথা বলার সুযোগ সীমিত করা এবং আইন প্রণয়ন ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ট্রেজারি বেঞ্চের আচরণ ‘ইনসাফপূর্ণ’ নয় বলে সম্পাদকদের অবহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ও সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে যে রায় দিয়েছেন, সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। আইনমন্ত্রী গণভোটের চারটি বিষয়ের মধ্যে সাড়ে তিনটিতে একমত হলেও বাকি অর্ধেক ইস্যুতে অমত পোষণ করায় সংকট তৈরি হয়েছে। জামায়াত স্পষ্ট করেছে, জনগণের এই ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেবে না। এসব সংকটের সমাধান এবং জনগণের সামনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সম্পাদকদের লেখনী ও কলমের মাধ্যমে সহযোগিতা চেয়েছে দলটি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সম্পাদকদের একটি অংশ উপস্থিত না থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো দূরত্ব নেই। যারা আসতে পারেননি, তারা টেলিফোনে কারণ জানিয়েছেন। তার মতে, এই মতবিনিময় সভাই গণমাধ্যমের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রমাণ।

সরকারের পক্ষ থেকে লং মার্চ, সভা-সমাবেশসহ জামায়াতের আন্দোলনের কোনো ভিত্তি নেই—এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এমন কথা বলেন, তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সক্ষমতা নেই। তারা শুধু সরকারকে খুশি করতে ‘চাটুকারিতা’ করছেন। বর্তমানে ‘গণভোটের রায়’ দেশের প্রধান ইস্যু বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, জনমত গঠন এবং রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৫ তারিখ সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে বড় ধরনের লং মার্চ ও গাড়িবহর যাত্রা করা হবে।

কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির পথে সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে জামায়াত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতারা।

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় আমির ছাড়াও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রূপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানবকণ্ঠের শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ নয়: জামায়াত
0:00 0:00
1.0x