ঢাকা    সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ-এনামুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে দুদকে আবেদন

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ-এনামুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে দুদকে আবেদন
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ-এনামুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে দুদকে আবেদন

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ঢাকা কাস্টমস হাউসের ওই দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চোরাচালান ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, মাজেদ ও এনামুল বর্তমানে ঢাকা কাস্টমস হাউসকে চোরাচালান ও দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। আরও কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার যোগসাজশে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে সেখানে চোরাচালান চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঢাকা কাস্টমস হাউসে বর্তমানে বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য খালাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১ ব্যবহার করে কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে আমদানি নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরোনো ল্যাপটপ, মাদকদ্রব্য এবং আমদানি শর্তযুক্ত মোবাইল ফোন, মেডিসিন, ড্রোন, ওয়াকি-টকি ও উচ্চ শুল্কের মোবাইল এলসিডি ও সানগ্লাস মিথ্যা ঘোষণায় খালাস দেওয়া হচ্ছে।

এতে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অবৈধ ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজস্ব ফাঁকির ওই ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার একটি অংশ অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছে যাচ্ছে।

অভিযোগপত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ব্যাগেজ রুলস সংশোধনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, একজন প্রবাসী যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং বছরে একবার একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারবেন। বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে বিটিআরসির আমদানি শর্ত এবং প্রতি পিস মোবাইল ফোনের আমদানি মূল্যের ওপর ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ শুল্কের বিধান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, দেশে মোবাইল ফোনের ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান সিন্ডিকেট ও অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তারা ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১-কে চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন। চায়না, হংকং, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে ওই গেট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার পিস মোবাইল ফোন কোনো শুল্ক পরিশোধ ও আমদানি শর্ত পালন ছাড়াই মিথ্যা ঘোষণায় খালাস হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মোবাইল ফোনের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা প্রতিদিন সরকারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ মোবাইল ফোন আমদানিকারকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ ছাড়া কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে আমদানি নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরোনো ল্যাপটপ ও মাদকদ্রব্য এবং আমদানি শর্তযুক্ত মেডিসিন, ড্রোন ও ওয়াকি-টকি ৬০ শতাংশ কমিশনে চোরাচালান হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তারা চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে রাজস্ব ফাঁকির ৬০ শতাংশ কমিশন হিসেবে ঘুষ নিচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েক মাস আগেও ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন এলসিডির চালান খালাস হতো। এসব চালান থেকে আমদানিকারকেরা প্রতি সপ্তাহে শুধু মোবাইল ফোন এলসিডি বাবদ প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা শুল্ক-কর সরকারকে পরিশোধ করতেন।

তবে বর্তমানে আমদানিকারকেরা বৈধভাবে মোবাইল ফোন এলসিডির চালান করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রতি কেজি মোবাইল ফোন এলসিডির জন্য সরকারকে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর দিতে হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে এ পণ্যের পুরো অংশই অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চোরাচালান হচ্ছে।

অভিযোগপত্রে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলকে কাস্টমসের কথিত অসাধু কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১-এর মোট ডেলিভারির দায়িত্বে রয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই দুই কর্মকর্তা কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে মিথ্যা ঘোষণায় চোরাচালানকৃত পণ্য খালাস দিয়ে চোরাকারবারীদের কাছ থেকে রাজস্ব ফাঁকির মোট ৬০ শতাংশ কমিশন হিসেবে ঘুষ সংগ্রহ করেন। পরে ওই অর্থের ভাগ ডিসি-ফ্রেইট, ডিসি-প্রিভেন্টিভ, শুল্ক গোয়েন্দার এয়ার ফ্রেইট ইউনিট সার্কেল এবং ডিজি ইন্টেলিজেন্সের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার আশীর্বাদ এবং কতিপয় সিএন্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশে মাজেদ ও এনামুল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা বাংলাদেশ কাস্টমসের নিয়ম, আইন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে আমদানি নিষিদ্ধ, আমদানি শর্তযুক্ত এবং উচ্চ শুল্কের পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে খালাস দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।

আবেদনে চোরাচালান সিন্ডিকেট ধ্বংসের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করারও আবেদন জানানো হয়।

সূত্র: আমাদের মাতৃভূমি

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ-এনামুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে দুদকে আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ঢাকা কাস্টমস হাউসের ওই দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চোরাচালান ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, মাজেদ ও এনামুল বর্তমানে ঢাকা কাস্টমস হাউসকে চোরাচালান ও দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। আরও কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার যোগসাজশে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে সেখানে চোরাচালান চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঢাকা কাস্টমস হাউসে বর্তমানে বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য খালাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১ ব্যবহার করে কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে আমদানি নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরোনো ল্যাপটপ, মাদকদ্রব্য এবং আমদানি শর্তযুক্ত মোবাইল ফোন, মেডিসিন, ড্রোন, ওয়াকি-টকি ও উচ্চ শুল্কের মোবাইল এলসিডি ও সানগ্লাস মিথ্যা ঘোষণায় খালাস দেওয়া হচ্ছে।

এতে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অবৈধ ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজস্ব ফাঁকির ওই ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার একটি অংশ অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছে যাচ্ছে।

অভিযোগপত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ব্যাগেজ রুলস সংশোধনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, একজন প্রবাসী যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং বছরে একবার একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারবেন। বৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে বিটিআরসির আমদানি শর্ত এবং প্রতি পিস মোবাইল ফোনের আমদানি মূল্যের ওপর ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ শুল্কের বিধান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, দেশে মোবাইল ফোনের ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান সিন্ডিকেট ও অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তারা ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১-কে চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন। চায়না, হংকং, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে ওই গেট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার পিস মোবাইল ফোন কোনো শুল্ক পরিশোধ ও আমদানি শর্ত পালন ছাড়াই মিথ্যা ঘোষণায় খালাস হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মোবাইল ফোনের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা প্রতিদিন সরকারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ মোবাইল ফোন আমদানিকারকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ ছাড়া কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে আমদানি নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরোনো ল্যাপটপ ও মাদকদ্রব্য এবং আমদানি শর্তযুক্ত মেডিসিন, ড্রোন ও ওয়াকি-টকি ৬০ শতাংশ কমিশনে চোরাচালান হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তারা চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে রাজস্ব ফাঁকির ৬০ শতাংশ কমিশন হিসেবে ঘুষ নিচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েক মাস আগেও ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন এলসিডির চালান খালাস হতো। এসব চালান থেকে আমদানিকারকেরা প্রতি সপ্তাহে শুধু মোবাইল ফোন এলসিডি বাবদ প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা শুল্ক-কর সরকারকে পরিশোধ করতেন।

তবে বর্তমানে আমদানিকারকেরা বৈধভাবে মোবাইল ফোন এলসিডির চালান করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রতি কেজি মোবাইল ফোন এলসিডির জন্য সরকারকে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর দিতে হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে এ পণ্যের পুরো অংশই অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চোরাচালান হচ্ছে।

অভিযোগপত্রে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলকে কাস্টমসের কথিত অসাধু কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-০১-এর মোট ডেলিভারির দায়িত্বে রয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই দুই কর্মকর্তা কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে মিথ্যা ঘোষণায় চোরাচালানকৃত পণ্য খালাস দিয়ে চোরাকারবারীদের কাছ থেকে রাজস্ব ফাঁকির মোট ৬০ শতাংশ কমিশন হিসেবে ঘুষ সংগ্রহ করেন। পরে ওই অর্থের ভাগ ডিসি-ফ্রেইট, ডিসি-প্রিভেন্টিভ, শুল্ক গোয়েন্দার এয়ার ফ্রেইট ইউনিট সার্কেল এবং ডিজি ইন্টেলিজেন্সের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার আশীর্বাদ এবং কতিপয় সিএন্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশে মাজেদ ও এনামুল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা বাংলাদেশ কাস্টমসের নিয়ম, আইন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে আমদানি নিষিদ্ধ, আমদানি শর্তযুক্ত এবং উচ্চ শুল্কের পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে খালাস দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।

আবেদনে চোরাচালান সিন্ডিকেট ধ্বংসের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করারও আবেদন জানানো হয়।

সূত্র: আমাদের মাতৃভূমি


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ-এনামুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে দুদকে আবেদন
0:00 0:00
1.0x