২০২৫–২৬ অর্থবছরে শাহরাস্তি উপজেলার ‘খদ্দের খাল’ এবং ‘নওড়া–মেহের গোদা খাল’ পুনঃখননের জন্য মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির আওতায় শুরুতে ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার বেশি খাল খনন হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দের পুরো অর্থও ব্যয় হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারি হিসাব বিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ‘খদ্দের খাল’ পুনঃখননে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা। ডাকাতিয়া নদীর খোর্দ থেকে মোড়াগাঁও বটতলা শৈলখালী খাল পর্যন্ত পরিচালিত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা। এতে বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ২০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা কম ব্যয় হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘নওড়া–মেহের গোদা খাল’ পুনঃখননে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকা। এ প্রকল্পেও প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
দুটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬০০ টাকা। এতে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ওই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু জানান, শুরুতে দুই প্রকল্পের জন্য ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহারের ফলে কম ব্যয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের নির্ধারিত শর্তও পূরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কাজে লাগানোয় কাজের সময় কমার পাশাপাশি শ্রমিক ও অন্যান্য খাতের ব্যয়ও কমেছে। এর ফলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাল পুনঃখনন করা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, খাল পুনঃখননের প্রকল্পে শুধু কত পরিমাণ মাটি কাটা হবে তা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। কোন স্থানে কতটুকু খনন প্রয়োজন, কোথায় যন্ত্র ব্যবহার করা হবে এবং কোন অংশে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হবে—এসব বিষয়েও যথাযথ পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি প্রয়োজন। শাহরাস্তির দুটি প্রকল্পে এসব বিষয় সমন্বয় করে কাজ করা হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ ব্যয় করাকে অনেক সময় কাজ সম্পন্ন হওয়ার একটি প্রচলিত সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শাহরাস্তির এই দুটি প্রকল্পের হিসাব দেখিয়েছে, বরাদ্দের পুরো অর্থ খরচ না করেও নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দুটি প্রকল্পের অব্যয়িত ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়াকে সরকারি অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের ভাষ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হয়। সেই অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একই বরাদ্দে আরও বেশি উন্নয়নকাজ করা সম্ভব। পাশাপাশি প্রকল্প শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হলে অর্থের অপচয় কমবে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।
শাহরাস্তির দুটি খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। পুনঃখননের ফলে খাল দুটির পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
খালগুলো সচল হলে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা, মাছের আবাসস্থল সৃষ্টি এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতা কমাতেও এগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রকল্প দুটির বাস্তব সুফলও স্থানীয় মানুষ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সাশ্রয় ও দক্ষতার বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে গত ৮ আগস্ট শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিরা খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সম্মানসূচক আমন্ত্রণ জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, একটি প্রকল্পের সফলতা শুধু নির্ধারিত কাজ শেষ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্ধারিত মান বজায় রেখে কম ব্যয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা এবং অব্যয়িত অর্থ যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়াও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শাহরাস্তির দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ১৯ কিলোমিটার খননের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা; এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬০০ টাকা। অব্যয়িত ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত গেছে সরকারি কোষাগারে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম, অপচয় ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ যেখানে প্রায়ই আলোচনায় আসে, সেখানে শাহরাস্তির এই হিসাবকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পেও অনুসরণ করা হবে। এতে একই অর্থে আরও বেশি উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হবে।
তাদের মতে, সরকারি অর্থকে শুধু ‘বরাদ্দ শেষ করার অর্থ’ হিসেবে না দেখে জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রকল্পে কম ব্যয়ে বেশি ও মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
সূত্র: চ্যানেল ২৪

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০২৫–২৬ অর্থবছরে শাহরাস্তি উপজেলার ‘খদ্দের খাল’ এবং ‘নওড়া–মেহের গোদা খাল’ পুনঃখননের জন্য মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির আওতায় শুরুতে ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার বেশি খাল খনন হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দের পুরো অর্থও ব্যয় হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারি হিসাব বিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ‘খদ্দের খাল’ পুনঃখননে বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা। ডাকাতিয়া নদীর খোর্দ থেকে মোড়াগাঁও বটতলা শৈলখালী খাল পর্যন্ত পরিচালিত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা। এতে বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ২০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা কম ব্যয় হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘নওড়া–মেহের গোদা খাল’ পুনঃখননে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকা। এ প্রকল্পেও প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
দুটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬০০ টাকা। এতে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা অব্যয়িত থেকে যায়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ওই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু জানান, শুরুতে দুই প্রকল্পের জন্য ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহারের ফলে কম ব্যয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের নির্ধারিত শর্তও পূরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কাজে লাগানোয় কাজের সময় কমার পাশাপাশি শ্রমিক ও অন্যান্য খাতের ব্যয়ও কমেছে। এর ফলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাল পুনঃখনন করা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, খাল পুনঃখননের প্রকল্পে শুধু কত পরিমাণ মাটি কাটা হবে তা নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। কোন স্থানে কতটুকু খনন প্রয়োজন, কোথায় যন্ত্র ব্যবহার করা হবে এবং কোন অংশে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হবে—এসব বিষয়েও যথাযথ পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি প্রয়োজন। শাহরাস্তির দুটি প্রকল্পে এসব বিষয় সমন্বয় করে কাজ করা হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ ব্যয় করাকে অনেক সময় কাজ সম্পন্ন হওয়ার একটি প্রচলিত সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শাহরাস্তির এই দুটি প্রকল্পের হিসাব দেখিয়েছে, বরাদ্দের পুরো অর্থ খরচ না করেও নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দুটি প্রকল্পের অব্যয়িত ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়াকে সরকারি অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের ভাষ্য, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হয়। সেই অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একই বরাদ্দে আরও বেশি উন্নয়নকাজ করা সম্ভব। পাশাপাশি প্রকল্প শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হলে অর্থের অপচয় কমবে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।
শাহরাস্তির দুটি খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। পুনঃখননের ফলে খাল দুটির পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
খালগুলো সচল হলে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা, মাছের আবাসস্থল সৃষ্টি এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতা কমাতেও এগুলোর ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রকল্প দুটির বাস্তব সুফলও স্থানীয় মানুষ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ সাশ্রয় ও দক্ষতার বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে গত ৮ আগস্ট শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিরা খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সম্মানসূচক আমন্ত্রণ জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, একটি প্রকল্পের সফলতা শুধু নির্ধারিত কাজ শেষ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্ধারিত মান বজায় রেখে কম ব্যয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা এবং অব্যয়িত অর্থ যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়াও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শাহরাস্তির দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ১৯ কিলোমিটার খননের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা; এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬০০ টাকা। অব্যয়িত ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত গেছে সরকারি কোষাগারে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম, অপচয় ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ যেখানে প্রায়ই আলোচনায় আসে, সেখানে শাহরাস্তির এই হিসাবকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পেও অনুসরণ করা হবে। এতে একই অর্থে আরও বেশি উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হবে।
তাদের মতে, সরকারি অর্থকে শুধু ‘বরাদ্দ শেষ করার অর্থ’ হিসেবে না দেখে জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রকল্পে কম ব্যয়ে বেশি ও মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
সূত্র: চ্যানেল ২৪

আপনার মতামত লিখুন