মঙ্গলবার রাতে মরিয়ম মাল্লাহির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কুহেস্তাক গ্রামে প্রায় ৩৫০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। স্ট্রেইট অব হরমুজের কাছের ওই গ্রামের দুটি বাড়িতে চলছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। অতিথিরা ছিলেন উৎসবের আবহে। এর মধ্যেই আকস্মিক বিস্ফোরণে বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।
বিস্ফোরণের আঘাতে বাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও একজন দুই দিন পর মারা গেলে মৃতের সংখ্যা পাঁচজনে দাঁড়ায়। আহত হয়েছেন অন্তত ৬০ জন। তবে অন্য একটি হিসাবে আহতের সংখ্যা ৬৭ জন বলা হয়েছে।
বিয়ের অতিথি জেইনাব মাল্লাহি জানান, বিস্ফোরণের ঠিক আগ পর্যন্ত নারীরা আনন্দ-উল্লাস করছিলেন। ড্রপসাইট নিউজকে তিনি বলেন, সেই আনন্দের শব্দ এখনো তার কানে বাজে। হঠাৎ বসার ঘরের ছাদ ও দেয়াল তাদের ওপর ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের সেই ভয়াবহ শব্দ তাকে রাত-দিন তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিস্ফোরক বাড়ির ছাদ ভেদ করে মেঝেতে প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত সৃষ্টি করে। আরেকটি আঘাতে একটি খেজুরগাছ ভেঙে দেয়ালের ওপর পড়ে। বিস্ফোরণের পর বিয়ের অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার করতে করতে তারা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজতে শুরু করেন। সে সময়ও ঘটনাস্থলে বিয়ের অনুষ্ঠানের আলো জ্বলছিল।
কনের বাবা ও স্থানীয় জেলে আলী মাল্লাহি জানান, অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫০ জন মানুষ ছিলেন। তার দাবি, যে দুটি বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল, সেগুলো পুরোপুরি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এবং আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু অন্য বাড়িতে গিয়ে চারদিকে মানুষের ছোটাছুটি দেখতে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতির ভয়াবহতা।
হামলায় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। তারা হলেন চার বছর বয়সী আমির আলী কারিমি, ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মাল্লাহি, ৪৩ বছর বয়সী কুলসুম মাল্লাহি নেজাদনিয়া এবং ৫০ বছর বয়সী জারখাতুন তাহেরি। গুরুতর আহত ২২ বছর বয়সী আসিয়েহ মোলাইনেজাদ পরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বেসামরিক হতাহতের এই ঘটনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। তিনিও বলেন, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত করা বিস্ফোরকটি অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত লেগে ছিটকে এসে পড়ার চেয়ে সরাসরি মার্কিন অস্ত্রের আঘাত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকায় হামলার নির্দিষ্ট উৎস ও লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে আনন্দঘন বিয়ের আয়োজন মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এনডিটিভি

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার রাতে মরিয়ম মাল্লাহির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কুহেস্তাক গ্রামে প্রায় ৩৫০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। স্ট্রেইট অব হরমুজের কাছের ওই গ্রামের দুটি বাড়িতে চলছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। অতিথিরা ছিলেন উৎসবের আবহে। এর মধ্যেই আকস্মিক বিস্ফোরণে বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।
বিস্ফোরণের আঘাতে বাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও একজন দুই দিন পর মারা গেলে মৃতের সংখ্যা পাঁচজনে দাঁড়ায়। আহত হয়েছেন অন্তত ৬০ জন। তবে অন্য একটি হিসাবে আহতের সংখ্যা ৬৭ জন বলা হয়েছে।
বিয়ের অতিথি জেইনাব মাল্লাহি জানান, বিস্ফোরণের ঠিক আগ পর্যন্ত নারীরা আনন্দ-উল্লাস করছিলেন। ড্রপসাইট নিউজকে তিনি বলেন, সেই আনন্দের শব্দ এখনো তার কানে বাজে। হঠাৎ বসার ঘরের ছাদ ও দেয়াল তাদের ওপর ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের সেই ভয়াবহ শব্দ তাকে রাত-দিন তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিস্ফোরক বাড়ির ছাদ ভেদ করে মেঝেতে প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত সৃষ্টি করে। আরেকটি আঘাতে একটি খেজুরগাছ ভেঙে দেয়ালের ওপর পড়ে। বিস্ফোরণের পর বিয়ের অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার করতে করতে তারা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজতে শুরু করেন। সে সময়ও ঘটনাস্থলে বিয়ের অনুষ্ঠানের আলো জ্বলছিল।
কনের বাবা ও স্থানীয় জেলে আলী মাল্লাহি জানান, অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫০ জন মানুষ ছিলেন। তার দাবি, যে দুটি বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল, সেগুলো পুরোপুরি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এবং আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, হয়তো গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু অন্য বাড়িতে গিয়ে চারদিকে মানুষের ছোটাছুটি দেখতে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতির ভয়াবহতা।
হামলায় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। তারা হলেন চার বছর বয়সী আমির আলী কারিমি, ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মাল্লাহি, ৪৩ বছর বয়সী কুলসুম মাল্লাহি নেজাদনিয়া এবং ৫০ বছর বয়সী জারখাতুন তাহেরি। গুরুতর আহত ২২ বছর বয়সী আসিয়েহ মোলাইনেজাদ পরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বেসামরিক হতাহতের এই ঘটনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। তিনিও বলেন, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত করা বিস্ফোরকটি অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত লেগে ছিটকে এসে পড়ার চেয়ে সরাসরি মার্কিন অস্ত্রের আঘাত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকায় হামলার নির্দিষ্ট উৎস ও লক্ষ্য সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে আনন্দঘন বিয়ের আয়োজন মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন