ছয়টি স্টেট ও দুটি টেরিটরি নিয়ে গঠিত কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় স্টেট নিউ সাউথ ওয়েলস। এর রাজধানী সিডনি। শহরটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ খলিল।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথম কোনো সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্বও মাসুদ খলিলের। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার ওই জয়কে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনের নজিরও তার।
বহু সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ার স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ের সংসদে বিভিন্ন জাতিগত পরিচয়ের রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত হওয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সময়ে স্টেট পর্যায়ের নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি।
স্থানীয় রাজনীতিতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় মাসুদ খলিল একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগত পরিচয় ও সংস্কৃতির মানুষের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। রাজনীতি ও জনসেবার ক্ষেত্রে তিনি সব মানুষকে সবার আগে অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে বিবেচনা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থাপনা তিনটি স্তরে বিভক্ত। এর সর্বোচ্চ স্তরে ফেডারেল সরকার পুরো দেশ পরিচালনা করে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে স্টেট ও টেরিটরি সরকার, যারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত পরিচালনা করে। আর সর্বনিম্ন স্তরে থাকা স্থানীয় সিটি কাউন্সিলগুলো ভবন নির্মাণ, স্থানীয় সড়ক, পার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার বিষয় দেখভাল করে।
কাউন্সিলর মাসুদ খলিল স্থানীয় সরকার বা সিটি কাউন্সিল পর্যায়ে রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার স্টেট পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেট পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্যাম্পবেলটাউন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাসুদ খলিল বলেন, অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুটি বড় দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে দল দুটি জনগণের ভোটকে নিজেদের স্বাভাবিক অধিকার হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। ফলে জনগণের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নানা অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জড়িয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
কাউন্সিলর খলিলের স্থানীয় রাজনৈতিক দল ‘কমিউনিটি ভয়েস অব অস্ট্রেলিয়া’র প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সেবা পাওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের আরেক কাউন্সিলর খালেদ হালাবির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছয়টি স্টেট ও দুটি টেরিটরি নিয়ে গঠিত কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় স্টেট নিউ সাউথ ওয়েলস। এর রাজধানী সিডনি। শহরটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত স্বতন্ত্র কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ খলিল।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথম কোনো সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্বও মাসুদ খলিলের। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার ওই জয়কে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনের নজিরও তার।
বহু সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ার স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ের সংসদে বিভিন্ন জাতিগত পরিচয়ের রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত হওয়ার নজির রয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সময়ে স্টেট পর্যায়ের নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি।
স্থানীয় রাজনীতিতে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় মাসুদ খলিল একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগত পরিচয় ও সংস্কৃতির মানুষের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। রাজনীতি ও জনসেবার ক্ষেত্রে তিনি সব মানুষকে সবার আগে অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে বিবেচনা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থাপনা তিনটি স্তরে বিভক্ত। এর সর্বোচ্চ স্তরে ফেডারেল সরকার পুরো দেশ পরিচালনা করে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে স্টেট ও টেরিটরি সরকার, যারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত পরিচালনা করে। আর সর্বনিম্ন স্তরে থাকা স্থানীয় সিটি কাউন্সিলগুলো ভবন নির্মাণ, স্থানীয় সড়ক, পার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার বিষয় দেখভাল করে।
কাউন্সিলর মাসুদ খলিল স্থানীয় সরকার বা সিটি কাউন্সিল পর্যায়ে রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার স্টেট পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেট পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্যাম্পবেলটাউন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাসুদ খলিল বলেন, অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুটি বড় দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে দল দুটি জনগণের ভোটকে নিজেদের স্বাভাবিক অধিকার হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। ফলে জনগণের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নানা অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জড়িয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
কাউন্সিলর খলিলের স্থানীয় রাজনৈতিক দল ‘কমিউনিটি ভয়েস অব অস্ট্রেলিয়া’র প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সেবা পাওয়ার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের আরেক কাউন্সিলর খালেদ হালাবির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন