মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এ মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।
সেদিনই ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগটি আমলে নেন। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ বিভিন্ন ধাপের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাসহ মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।
এর দুই দিন পর, ৪ আগস্ট থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক ৯ কার্যদিবসে শেষ হয় ১৭ আগস্ট। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিরোধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাছিমের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, আরাফাতের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, পরশের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে হত্যা ও নির্যাতনের এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ চালায়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখিলের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সারাদেশে তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সারাদেশে তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইনানের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, উপরোক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ওই আইনের আওতায় এসব অপরাধ শাস্তিযোগ্য।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এ মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।
সেদিনই ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগটি আমলে নেন। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ বিভিন্ন ধাপের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাসহ মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।
এর দুই দিন পর, ৪ আগস্ট থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক ৯ কার্যদিবসে শেষ হয় ১৭ আগস্ট। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিরোধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাছিমের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, আরাফাতের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, পরশের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে হত্যা ও নির্যাতনের এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ চালায়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখিলের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সারাদেশে তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের দাবি, সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সারাদেশে তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইনানের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও জ্ঞাতসারে এসব হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, উপরোক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ওই আইনের আওতায় এসব অপরাধ শাস্তিযোগ্য।

আপনার মতামত লিখুন