ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের বেকীনগর এলাকায় দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিজয়নগর থানা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং আদালতে একাধিক লিখিত আবেদন ও মামলা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, স্থানীয় সালিশ, গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক উদ্যোগেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগী রবীন্দ্র সূত্রধর গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজয়নগর ইউএনও ও থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বেকীনগর মৌজায় তাঁর বসতবাড়ির সামনে দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমমুখী একটি রাস্তা রয়েছে, যা দিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছেন। তবে প্রতিবেশী রাখাল সূত্রধর (৫৮), তাঁর ছেলে ইন্দ্রজিৎ সূত্রধর (৩৪), বিশ্বজিৎ সূত্রধর (৩২), বাসু সূত্রধর ও দীপঙ্কর সূত্রধর ওই রাস্তা এবং বাড়ির সামনের সরকারি গোপাট দখল করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাঁকে বাধা দেন, গালাগাল করেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা ও জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক ও চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত করেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এনিয়ে মনমোহন সূত্রধর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ও ১৪৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত পরবর্তীতে বিজয়নগর থানাকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত তারিখে উভয় পক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার আদেশ দেন।
এ ছাড়া আদালতের নির্দেশে ভূমি বিভাগের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে পূর্বে ব্যবহৃত চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা, দখল ও চলাচলের অধিকার সম্পর্কিত বিষয় আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে জানানো হয়।
রবীন্দ্র সূত্রধর দাবি করেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও তা মানা হয়নি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত রাখাল সূত্রধর বলেন, আমার জমি দিয়ে আমি রাস্তা দিব না। আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদলতে যে রায় আসে তা মেনে নিব।
এবিষয়ে চান্দুরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমরা গ্রাম্য আদালত বসিয়ে ছিলাম। কতিপয় গ্রাম্য সাহেব সর্দারের এতোপাতারি কথাবার্তার সিদ্ধান্ত তামিল করা যায়নি।
এ ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের বেকীনগর এলাকায় দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিজয়নগর থানা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং আদালতে একাধিক লিখিত আবেদন ও মামলা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, স্থানীয় সালিশ, গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক উদ্যোগেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগী রবীন্দ্র সূত্রধর গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজয়নগর ইউএনও ও থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বেকীনগর মৌজায় তাঁর বসতবাড়ির সামনে দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমমুখী একটি রাস্তা রয়েছে, যা দিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছেন। তবে প্রতিবেশী রাখাল সূত্রধর (৫৮), তাঁর ছেলে ইন্দ্রজিৎ সূত্রধর (৩৪), বিশ্বজিৎ সূত্রধর (৩২), বাসু সূত্রধর ও দীপঙ্কর সূত্রধর ওই রাস্তা এবং বাড়ির সামনের সরকারি গোপাট দখল করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাঁকে বাধা দেন, গালাগাল করেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা ও জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক ও চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত করেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এনিয়ে মনমোহন সূত্রধর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ও ১৪৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত পরবর্তীতে বিজয়নগর থানাকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং নির্ধারিত তারিখে উভয় পক্ষকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার আদেশ দেন।
এ ছাড়া আদালতের নির্দেশে ভূমি বিভাগের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে পূর্বে ব্যবহৃত চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা, দখল ও চলাচলের অধিকার সম্পর্কিত বিষয় আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে জানানো হয়।
রবীন্দ্র সূত্রধর দাবি করেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও তা মানা হয়নি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত রাখাল সূত্রধর বলেন, আমার জমি দিয়ে আমি রাস্তা দিব না। আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদলতে যে রায় আসে তা মেনে নিব।
এবিষয়ে চান্দুরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমরা গ্রাম্য আদালত বসিয়ে ছিলাম। কতিপয় গ্রাম্য সাহেব সর্দারের এতোপাতারি কথাবার্তার সিদ্ধান্ত তামিল করা যায়নি।
এ ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন