সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সভায় ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সব ব্যাটালিয়ন ও বিওপি থেকে বিজিবি সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাসে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আওতায় নতুন বিওপি স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও থার্মাল ক্যামেরা সংযোজন এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিজিবিকে বিশ্বমানের আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে।
বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি হলো কঠোর শৃঙ্খলা। তিনি বিজিবি সদস্যদের গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাজেট ও সম্পদের বাস্তব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার ধাপে ধাপে বিজিবির যৌক্তিক প্রয়োজন পূরণ এবং সদস্যদের আবাসন ও কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিজিবি দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজিবি অত্যন্ত নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালন করে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জোরপূর্বক পুশইনের অপচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করায় বিজিবির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে বর্তমানে পুশইনের অপচেষ্টা কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা দেশের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। একই সঙ্গে মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবির মানবিক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি পিলখানায় অবস্থিত বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এছাড়া সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সফর শেষ করেন।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সভায় ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সব ব্যাটালিয়ন ও বিওপি থেকে বিজিবি সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাসে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আওতায় নতুন বিওপি স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও থার্মাল ক্যামেরা সংযোজন এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিজিবিকে বিশ্বমানের আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে।
বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি হলো কঠোর শৃঙ্খলা। তিনি বিজিবি সদস্যদের গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাজেট ও সম্পদের বাস্তব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার ধাপে ধাপে বিজিবির যৌক্তিক প্রয়োজন পূরণ এবং সদস্যদের আবাসন ও কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিজিবি দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজিবি অত্যন্ত নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালন করে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জোরপূর্বক পুশইনের অপচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করায় বিজিবির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে বর্তমানে পুশইনের অপচেষ্টা কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা দেশের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। একই সঙ্গে মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবির মানবিক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি পিলখানায় অবস্থিত বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এছাড়া সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সফর শেষ করেন।

আপনার মতামত লিখুন