ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের পরিচয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত—‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতা স্পষ্টভাবে বলেছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাই সবার আগে বাংলাদেশ হলে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় পরবর্তী বিষয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূলনীতি হলো—সবার জন্য বাংলাদেশ।

অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একসময় রাজনৈতিক স্বার্থে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দেশের সচেতন মানুষ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণই বিচারক। আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।

সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সংবিধানের চেতনা অনুসারে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং সেসব উপাসনালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে শুধু সংবিধানের লিখিত বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বাস্তব জীবনেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ভাষা ব্যবহারে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সাধারণত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু তার মতে, ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে বলা উচিত—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এ ধরনের ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করে তুলবে।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের পরিচয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত—‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতা স্পষ্টভাবে বলেছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাই সবার আগে বাংলাদেশ হলে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় পরবর্তী বিষয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূলনীতি হলো—সবার জন্য বাংলাদেশ।

অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একসময় রাজনৈতিক স্বার্থে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দেশের সচেতন মানুষ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণই বিচারক। আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।

সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। সংবিধানের চেতনা অনুসারে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং সেসব উপাসনালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে শুধু সংবিধানের লিখিত বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বাস্তব জীবনেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ভাষা ব্যবহারে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সাধারণত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু তার মতে, ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে বলা উচিত—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এ ধরনের ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করে তুলবে।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
0:00 0:00
1.0x