ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অপরাধ

হুইলচেয়ারে আদালতে হাজির ভুক্তভোগী, তিন মাসেও ধরা পড়েনি প্রধান আসামি

হুইলচেয়ারে আদালতে হাজির ভুক্তভোগী, তিন মাসেও ধরা পড়েনি প্রধান আসামি
হুইলচেয়ারে আদালতে হাজির ভুক্তভোগী, তিন মাসেও ধরা পড়েনি প্রধান আসামি

ফরিদপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবকের ডান হাত ও ডান পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ভুক্তভোগী সুজন মুন্সি।

সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার দুই আসামির রিমান্ড শুনানিতে বক্তব্য দিতে হুইলচেয়ারে করে আদালতে উপস্থিত হন তিনি।

ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ অনুষ্ঠিত শুনানিতে সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো বিচ্ছিন্ন হাত-পা নিয়ে হাজির হন সুজন মুন্সি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা নিরু বেগম, স্ত্রী বেবী বেগম এবং বড় ভাই হায়দার মুন্সি।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় চরভদ্রাসন উপজেলার ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন সুজন। চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। হামলায় শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর আঘাত পান তিনি। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বড় ভাই হায়দার মুন্সিও আহত হন।

ঘটনার পরদিন সুজনের মা নিরু বেগম চারজনকে আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন কালাম মণ্ডল, সাত্তার মণ্ডল, শাহ বরাত মণ্ডল ও শামীম মণ্ডল। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি কালাম মণ্ডল এখনও পলাতক।

গত বৃহস্পতিবার সাত্তার মণ্ডল ও শাহ বরাত মণ্ডল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার শুনানির সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালত দুই আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আদালত প্রাঙ্গণে সুজনের স্ত্রী বেবী বেগম বলেন, তাদের চারটি ছোট সন্তান রয়েছে। তার স্বামী এখন একা চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি নিজের হাতে খেতেও অক্ষম। তিনি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সুজনের মা নিরু বেগম বলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পঙ্গু করা হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি দ্রুত বিচার এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বলেন, প্রায় ১০ দিন আগে তিনি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত দুইজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক (ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক)

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


হুইলচেয়ারে আদালতে হাজির ভুক্তভোগী, তিন মাসেও ধরা পড়েনি প্রধান আসামি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবকের ডান হাত ও ডান পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ভুক্তভোগী সুজন মুন্সি।

সোমবার (২৭ জুলাই) মামলার দুই আসামির রিমান্ড শুনানিতে বক্তব্য দিতে হুইলচেয়ারে করে আদালতে উপস্থিত হন তিনি।

ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ অনুষ্ঠিত শুনানিতে সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো বিচ্ছিন্ন হাত-পা নিয়ে হাজির হন সুজন মুন্সি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা নিরু বেগম, স্ত্রী বেবী বেগম এবং বড় ভাই হায়দার মুন্সি।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় চরভদ্রাসন উপজেলার ফাজেলখার ডাঙ্গী এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন সুজন। চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। হামলায় শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর আঘাত পান তিনি। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বড় ভাই হায়দার মুন্সিও আহত হন।

ঘটনার পরদিন সুজনের মা নিরু বেগম চারজনকে আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন কালাম মণ্ডল, সাত্তার মণ্ডল, শাহ বরাত মণ্ডল ও শামীম মণ্ডল। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি কালাম মণ্ডল এখনও পলাতক।

গত বৃহস্পতিবার সাত্তার মণ্ডল ও শাহ বরাত মণ্ডল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার শুনানির সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালত দুই আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আদালত প্রাঙ্গণে সুজনের স্ত্রী বেবী বেগম বলেন, তাদের চারটি ছোট সন্তান রয়েছে। তার স্বামী এখন একা চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি নিজের হাতে খেতেও অক্ষম। তিনি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সুজনের মা নিরু বেগম বলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে পঙ্গু করা হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি দ্রুত বিচার এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বলেন, প্রায় ১০ দিন আগে তিনি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন। এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত দুইজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ পলাতকদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক (ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক)


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হুইলচেয়ারে আদালতে হাজির ভুক্তভোগী, তিন মাসেও ধরা পড়েনি প্রধান আসামি
0:00 0:00
1.0x