এন্টার্কটিকার হিমশীতল পরিবেশে প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণভাবে আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা, ছাই ও বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হলেও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস আগ্নেয়গিরিতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সাম্প্রতিক তথ্য ও দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে নিয়মিতভাবে খাঁটি সোনার কণা নির্গত হচ্ছে।
ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাউন্ট এরেবাস পৃথিবীর দক্ষিণতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। রস দ্বীপে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির চারপাশ বরফে আচ্ছাদিত হলেও এর চূড়ায় রয়েছে স্থায়ী ফুটন্ত লাভার হ্রদ। ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, ওই লাভার হ্রদ ও সেখান থেকে বের হওয়া শক্তিশালী গ্যাসীয় প্রবাহের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম খাঁটি সোনা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এসব সূক্ষ্ম সোনার কণা বাতাসে ভেসে আগ্নেয়গিরির চারপাশের প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বরফের ওপর জমা হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, আগ্নেয়গিরি থেকে বিভিন্ন মূল্যবান ধাতুর বাষ্প নির্গত হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। হাওয়াইয়ের কিলাউয়েয়া, ইতালির এটনা এবং আলাস্কার অগাস্টিন আগ্নেয়গিরিতেও সোনার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মাউন্ট এরেবাসের বিশেষত্ব হলো, এখানে কোনো যৌগ নয়, বরং স্ফটিক আকারে মৌলিক সোনার কণা বের হয়। চরম তাপ ও চাপের মধ্যেও কীভাবে এই সোনা নিখাদ অবস্থায় বাইরে আসে, তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজি–এর বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গবেষকদের একাংশের ধারণা, লাভার গভীরে থাকা ক্লোরিনযুক্ত যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে সোনা গ্যাসীয় অবস্থায় রূপ নেয় এবং বায়ুমণ্ডলের ঠান্ডা পরিবেশে এসে আবার সোনা হিসেবে পৃথক হয়ে তুষারের সঙ্গে মিশে যায়। অন্য একদল বিজ্ঞানীর মতে, লাভার ওপরের অংশে সোনা জমা হওয়ার পর গ্যাসের প্রবল চাপে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা চললেও এ ঘটনার একক ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি, যা ভূবিজ্ঞানের অন্যতম কৌতূহলের বিষয় হয়ে রয়েছে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
এন্টার্কটিকার হিমশীতল পরিবেশে প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণভাবে আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা, ছাই ও বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হলেও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস আগ্নেয়গিরিতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সাম্প্রতিক তথ্য ও দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে নিয়মিতভাবে খাঁটি সোনার কণা নির্গত হচ্ছে।
ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাউন্ট এরেবাস পৃথিবীর দক্ষিণতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। রস দ্বীপে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির চারপাশ বরফে আচ্ছাদিত হলেও এর চূড়ায় রয়েছে স্থায়ী ফুটন্ত লাভার হ্রদ। ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, ওই লাভার হ্রদ ও সেখান থেকে বের হওয়া শক্তিশালী গ্যাসীয় প্রবাহের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম খাঁটি সোনা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এসব সূক্ষ্ম সোনার কণা বাতাসে ভেসে আগ্নেয়গিরির চারপাশের প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বরফের ওপর জমা হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, আগ্নেয়গিরি থেকে বিভিন্ন মূল্যবান ধাতুর বাষ্প নির্গত হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। হাওয়াইয়ের কিলাউয়েয়া, ইতালির এটনা এবং আলাস্কার অগাস্টিন আগ্নেয়গিরিতেও সোনার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মাউন্ট এরেবাসের বিশেষত্ব হলো, এখানে কোনো যৌগ নয়, বরং স্ফটিক আকারে মৌলিক সোনার কণা বের হয়। চরম তাপ ও চাপের মধ্যেও কীভাবে এই সোনা নিখাদ অবস্থায় বাইরে আসে, তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজি–এর বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গবেষকদের একাংশের ধারণা, লাভার গভীরে থাকা ক্লোরিনযুক্ত যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে সোনা গ্যাসীয় অবস্থায় রূপ নেয় এবং বায়ুমণ্ডলের ঠান্ডা পরিবেশে এসে আবার সোনা হিসেবে পৃথক হয়ে তুষারের সঙ্গে মিশে যায়। অন্য একদল বিজ্ঞানীর মতে, লাভার ওপরের অংশে সোনা জমা হওয়ার পর গ্যাসের প্রবল চাপে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা চললেও এ ঘটনার একক ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি, যা ভূবিজ্ঞানের অন্যতম কৌতূহলের বিষয় হয়ে রয়েছে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর

আপনার মতামত লিখুন